গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগের এক সাবেক কর্মীকে মূল্যায়ন করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে মিনহাজ নামে ওই সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

গত শনিবার (১৬ আগস্ট) গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সোহাগ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল জনির স্বাক্ষরিত প্যাডে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মিনহাজ দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি শ্রীপুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রিমনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং পৌর ছাত্রলীগের প্রভাবশালী সদস্য শিপনের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, একসময় ছাত্রলীগের হয়ে রাজনীতি করার সময় মিনহাজ ছাত্রদল কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।

কমিটিতে বাদ পড়া ছাত্রদল কর্মী বুলবুল বলেন, 'আমি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলাম। পরে আমাকে বলা হয় যুগ্ম সম্পাদক করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার নামই রাখা হয়নি। সেটি আমার ব্যক্তিগত দুঃখ নয়। কিন্তু যারা একসময় আমাদের দমন-পীড়ন করেছে, আজ তারাই কমিটিতে পদে বসছে, এটি ছাত্রদলের প্রতি আমাদের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে'।
পিয়ার আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবনিযুক্ত সভাপতি আল আমিন বলেন, মিনহাজ অতীতে এই কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। তিনি ছাত্রদল কর্মীদের নিপীড়নে অংশ নিয়েছিলেন। তাকেই আজ ছাত্রদলের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং ভবিষ্যতে ছাত্রদলের ভেতরে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিফাত মোড়ল বলেন, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশে তাকে পদ দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। অতি শীঘ্রই তাকে অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন ।
অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল জনির সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। মেসেজ পাঠালেও কোনও উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু ছাত্রদল একটি বড় সংগঠন, তাই প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হলেও এ বিষয়টি ধরা পড়েনি। আমাদের সংগঠনে ছাত্রলীগ থাকার সুযোগ নেই। আমরা ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তিনি যদি প্রমাণিতভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকেন, তবে তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে ।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ