রাজধানী ঢাকার মানুষ বর্তমানে এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ২১ নভেম্বর সকালে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র ভূমিকম্পের পর থেকে রাজধানীবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এটি অনুভব করেন। এতে অন্তত ১০ জন মারা যান এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। পরদিন ২২ নভেম্বর, একই দিনে সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়। সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবারও রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগেছে: ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে? ঘনবসতিপূর্ণ শহরে, যেখানে বহু ভবন বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত, নিরাপদ জায়গা কোথায় তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সম্প্রতি জানিয়েছে, যদি টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক অবকাঠামো এবং ফল্ট লাইনের অবস্থান মোটামুটি অনুকূলে থাকলেও, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরটিকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।
ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ?
শহরের নিরাপত্তা নির্ধারণ করতে হলে ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটির মতো শক্ত। রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও—এই ধরনের এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
তবে শুধুমাত্র ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করছে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ তা শুধুমাত্র ভবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।
লাল মাটির এলাকা হলেও ঝুঁকি কেন?
শক্ত মাটির এলাকাগুলোও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
ভরাট জমির ভবন পরিস্থিতি
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডোবা ও জলাশয় ভরাট করে আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, আফতাবনগর এরকম এলাকা। এইসব জায়গার মাটি প্রাকৃতিকভাবে শক্ত নয়।
বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, এমন এলাকায় ভবন নির্মাণের আগে মাটিকে বহুতল ভবন ধারণ করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় “গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট”। পাইল দেওয়ার পাশাপাশি মাটিকে ঠিকভাবে প্রস্তুত করা না হলে, দূরবর্তী ভূমিকম্পের কম্পনও ভবনের কম্পনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধ্বংস ঘটাতে পারে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ