যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ছয় হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাঁকে বহনকারী বিমানটি। তারেক রহমানের এই ঘরে ফেরার খবর বেশ ফলাও করে প্রচার করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। পাশাপাশি এটাও বলেছে, তারেক রহমানই হতে পারেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ নেতা ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন।’ আর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে তারেক রহমানের রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর লাইভ প্রকাশ করা হয়। এর শিরোনাম ছিল, ‘১৭ বছর পর ঢাকায় তারেক রহমান।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর এসেছেন দেশের মাটিতে।
আরেক ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের নেতা, যাঁকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রয়টার্স বলেছে, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করার পর দেশে ফিরেছেন এমন এক সময়, যখন ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। রয়টার্সের মতে, বিএনপি এখন নির্বাচনে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তারেক রহমানকে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন।
‘তারেক রহমানের পরিচিতি এবং দেশে ফেরার পটভূমির পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে আলজাজিরার এই প্রতিবেদনে। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমস লিখেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের নেতা নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের ফেরার খবরের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্লেষণ চলছে। তারা দাবি করছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা ভারতের জন্য ভালো খবর। দ্য উইক তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘তারেক রহমানের ফেরা কি ভারতের জন্য ভালো খবর?’ এরপর তারা এ নিয়ে নিজেদের বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। কেন এটি ভারতের জন্য ভালো খবর?’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক জনসমাগমে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ও যানবাহনব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে দিনের বেলায় টোল মওকুফ করা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের শিরোনাম— ‘নির্বাসন থেকে ফিরছেন জিয়া-পুত্র, বাংলাদেশের জন্য তারেক রহমানের গেমপ্ল্যান কী?’
আরেক প্রতিবেদনে এনডিটিভি লিখেছে, ১৭ বছর পর স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান। সঙ্গে ফিরল তাঁদের পারিবারিক বিড়ালও। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় পৌঁছেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সালে রাজনৈতিক নিপীড়নের পর দেশ ছেড়ে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা পরিবারের উত্তরসূরি এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরছেন, এমন বর্ণনা উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। তাঁর মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তারেক রহমান তাঁর মায়ের থেকে বিএনপির দায়িত্ব বুঝে নেবেন এমন ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অন্যতম দাবিদার তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছেন। আর পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের শিরোনাম হলো ‘নির্বাচনের আগে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী।’
এ ছাড়া আরব নিউজ, ডন, জিও নিউজের মতো আরো অনেক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমগুলোর বিবরণে, তারেক রহমানের এই ফেরাকে বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন সূচনা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশ্লেষণে তারেক রহমানের ঘরে ফেরাকে শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক অধ্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ