থার্টি ফার্স্ট নাইট বলতে ৩১ ডিসেম্বরের রাতকে বোঝানো হয়। এটি মূলত ইংরেজি “Thirty-first Night” থেকে এসেছে। যদিও এটি বিশ্বজুড়ে একটি সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পরিচিত, তবে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এর পালন নিষিদ্ধ।
ঐতিহাসিক সূত্র:
১. জুলিয়ান ক্যালেন্ডার: প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে ১ জানুয়ারি নতুন বছরের শুরু হিসেবে ধরা হতো। এই দিনটি দেবতা জানুসের (Janus) উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো, যাকে দ্বিমুখী দেবতা বলা হতো।
২. রোমান উৎসব: থার্টি ফার্স্ট নাইট মূলত রোমানদের সাটার্নালিয়া উৎসবের সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি শীতকালীন উৎসব হিসেবে আনন্দ, ভোজ এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে উদযাপিত হতো।
উপরের উভয় প্রথাই ইসলামের বিশ্বাসের বিপরীত। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা, বা তাদের অনুকরণ করা, ইসলামে হারাম।
ধর্মীয় নির্দেশনা:
সুন্নাতে আবু দাউদে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হযরত ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের অংশীদার গণ্য হবে।” (সুনানে আবু দাউদ)
বর্তমানে থার্টি ফার্স্ট নাইটের উদযাপনে গান-বাজনা, আতশবাজি, অশালীন কার্যকলাপ এবং মাঝে মাঝে বিপজ্জনক ঘটনা ঘটছে। এগুলো শুধুমাত্র ধর্মীয়ভাবে নয়, বরং বিবেক ও নাগরিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনৈতিক ও নিষিদ্ধ।
হাদিসে এসেছে:
হযরত আবু মালেক আশয়ারী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন:
“অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা হারাম হওয়া সত্ত্বেও জেনা, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারি)
সুতরাং মুসলিমদের উচিত এই ধরনের অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে বুঝতে এবং সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ