ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই (২০ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি।
হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানি ভাতা ৯৬ হাজার টাকা।
শামা ওবায়েদের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি জিপ গাড়ি, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। তিনি ৫০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করলেও এর মূল্য দেখাননি।
হলফনামায় উল্লেখ করা স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২০১৮ সালে দাখিল করা হলফনামায় শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা, যা বর্তমান হলফনামায় কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে তার আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা। তবে এ সময়ে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা। অন্যদিকে স্থাবর সম্পত্তি কমেছে ১০ লাখ টাকা।
২০১৮ সালের হলফনামায় তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করলেও বর্তমান হলফনামায় কোনো কৃষিজমি দেখাননি। তবে এবার তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির তথ্য দিয়েছেন, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৮ সালে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তিনটি ফ্ল্যাটের আয়তন ছিল ৬ হাজার ৬১০ বর্গফুট, যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ঋণের বিষয়ে দেখা যায়, ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তার নামে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ থাকলেও বর্তমান হলফনামায় কোনো ঋণের তথ্য উল্লেখ নেই। একই সঙ্গে স্বর্ণের পরিমাণ ৬০ তোলা থেকে কমে বর্তমানে ৫০ তোলা দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তেমন বাধ্যবাধকতা ছিল না। এবার নির্বাচন করার আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল করেছি। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হলে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি।’
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ