নাটোরের লালপুরে তীব্র শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তির হার উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে লালপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। প্রচণ্ড শীতের কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের দৈনিক আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকেই সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক এলাকায় শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেশি চোখে পড়ছে।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ জন রোগীর বেশিরভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ২৩ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভর্তি শিশুদের মধ্যে ১১ জন ছেলে ও ১২ জন মেয়ে। এছাড়া ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত বয়স্ক রোগীরাও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরুজ্জামান শামীম জানান, শীতজনিত কারণে বর্তমানে ২৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শীতের সময় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় বিশুদ্ধ পানি পান, গরম কাপড় ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদী-লালপুর অঞ্চলে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ছিন্নমূল ও অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ