ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য ইরান হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খ্যাতনামা মার্কিন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকস। তাঁর মতে, তেহরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত আগ্রহ বিশ্বকে একটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ইন্ডিয়া টুডে গ্লোবালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন স্যাকস। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’-এর কথা বললেও বাস্তবে তা অনুসরণ করছে না। তাঁর ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘রোগ স্টেট’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
জেফ্রি স্যাকস দাবি করেন, প্রায় আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার নেতাদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন—তিনি কেন সরাসরি ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালাবেন না। তাঁর মতে, এতে বোঝা যায় যে এই ধরনের সামরিক পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।
ইরান প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্যাকসের মতে, ইরান আধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা রাখে এবং দেশটি এমন একটি কৌশলগত অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক পরাশক্তির সরাসরি স্বার্থ জড়িত। ফলে সেখানে সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বৈশ্বিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বছরের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে মার-আ-লাগোতে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকেই ‘ইরান হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য’—এমন একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দাবি করেন স্যাকস।
এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরে ভারতের নেতৃত্বে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোকে জাতিসংঘ সনদ রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান জেফ্রি স্যাকস। তাঁর সতর্কতা, তা না হলে বিশ্ব এক গভীর ও বিপজ্জনক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ