ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো ক্রমেই অস্থিরতার মুখে পড়ছে। তার অনুসৃত ‘দ্রুত আঘাত, দ্রুত প্রত্যাহার’ কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন আর দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মতো ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। বরং সীমিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কৌশলগত সাফল্য অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনা এই কৌশলে ট্রাম্পকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ওই অভিযানে উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ না থাকায় এখন ওয়াশিংটনের নজর ঘুরছে ইরানের দিকে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বর্তমানে বেশ নাজুক। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের জেরে দেশটিতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যদিও বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প তুলনামূলক সংযত ভাষায় বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে বাস্তবে সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতা দেখা যাচ্ছে না। কাতার থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য আকাশ অভিযান নিয়ে পেন্টাগন সক্রিয় পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘স্বল্প ব্যয়ে সরকার পরিবর্তন’ মডেল। যেখানে আগের প্রশাসনগুলো বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠিয়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়েছে, সেখানে ট্রাম্প নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা, ছায়াযুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন। ভেনেজুয়েলায় এই কৌশল কার্যকর হওয়ার পেছনে দেশটির দুর্বল সামরিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বড় ভূমিকা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগাতে আগ্রহী।
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ইরান বর্তমানে ভেতর থেকেই চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি স্থলযুদ্ধে না গিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং আকাশপথে সামরিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখাই ওয়াশিংটনের মূল কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ভেনেজুয়েলার তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে ভেনেজুয়েলা ও ইরানের মতো দুটি জটিল ফ্রন্ট সামাল দেওয়া মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
তবুও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত এবং চীন তাইওয়ান ইস্যুতে মনোযোগী থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রভাব বিস্তার অনেকটাই সহজ হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—ট্রাম্পের এই আগ্রাসী সামরিক কৌশল ইরানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রকে কোন দিকে নিয়ে যাবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ