২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাদেশটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। এতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলে, পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাহার করবে এবং অভিযুক্তকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত নতুন কোনো মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি মনে করে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কমিশন সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। গেজেটে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এটি অন্যান্য সব আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ