রকারি, আধাসরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়লে চাকরির জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। একই সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) মনে করছে, আইনি ভিত্তি থাকায় মানুষ চাকরির নিরাপত্তার কারণে মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং এতে দেশের মাদকাসক্তের সংখ্যা কমবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সরকারি উদ্যোগে জৈব নমুনার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে পরীক্ষা করাতে আসেন।
২০১৮ সাল থেকে সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের নির্দেশনা থাকলেও আইনি বিধিমালা ছিল না। ডিএনসি দীর্ঘ ৮ বছরের প্রক্রিয়ার পর অবশেষে ‘ডোপ টেস্ট বিধিমালা-২০২৬’ জারি করেছে, যা এই পরীক্ষাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিধিমালার আওতায় সরকারি, আধাসরকারি, স্থানীয় সরকার, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি যদি মাদক সেবনের অভিযোগ বা সন্দেহের মুখোমুখি হন, তবে তারও পরীক্ষা করা হবে। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিদেশে যাওয়া বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে।
ডিএনসির কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট ডা. কাজী লুতফুল কবীর বলেন, কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান আগেই এই পরীক্ষা চালু করেছিল। এখন এটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় সমাজে বড় প্রভাব পড়বে।
বিধিমালা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়লে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো হবে। পরীক্ষায় অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, নখ, চুল, রক্ত ও মুখের লালা ব্যবহার করে ডোপ টেস্ট সম্ভব এবং বর্তমানে সেই সক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হবে।
বিধিমালা জারি হওয়ায় বেসরকারিভাবে পরীক্ষা আর করা যাবে না। বর্তমানে ঢাকার কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্র ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনায় পরীক্ষার সক্ষমতা ও জনবল রয়েছে, যা সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। ডিএনসি আশা করছে, এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছালে মাদক গ্রহণের প্রবণতা কমবে।
সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও ডিএনসি বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ