দিন দিন রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ২০১৭ সালে যেখানে বার্ষিক সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে গত বছর তা নেমে এসেছে ৪০০ মিলিয়নে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দাতা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় মাথাপিছু খাদ্য সহায়তাও কমছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আজ থেকে নতুন একটি নীতিমালা চালু করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত পরিবারগুলোর রেশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। তবে রোহিঙ্গা নেতারা এই পদ্ধতিকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগে জনপ্রতি মাসে ১২ ডলার সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও এখন তা ৭, ১০ ও ১২ ডলারের তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ পাবেন ৭ ডলার করে। দ্বিতীয় ধাপে থাকা প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ পাবেন ১২ ডলার; এর মধ্যে প্রতিবন্ধী, নারী-নেতৃত্বাধীন, শিশু-নেতৃত্বাধীন বা বয়স্ক সদস্য থাকা পরিবারগুলো অতিরিক্ত ৩ ডলার সহায়তা পাবে। বাকি ৫০ শতাংশ মানুষ তৃতীয় ধাপে থেকে পাবেন মাথাপিছু ১০ ডলার করে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বড় আকারে রোহিঙ্গা ঢল নামলেও এর সূচনা হয়েছিল ২০১২ সালে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন করে এসেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ, যদিও অনিবন্ধিতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়।
শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা গোষ্ঠীর সহায়তায় ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এখন সেই সহায়তায় উল্লেখযোগ্য ভাটা পড়েছে। জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের জন্য আগে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া গেলেও ২০২৫ সালে তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। গত বছর মোট সহায়তা ছিল ৪০০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে চলতি বছরে প্রয়োজন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। খাদ্য সহায়তা কমে গেলে পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং অনেক রোহিঙ্গা জীবিকার সন্ধানে ক্যাম্পের বাইরে যেতে বাধ্য হতে পারে, যা অপরাধ প্রবণতা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে। ইতোমধ্যে ক্যাম্প ও ভাসানচরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অর্থ সংকটে শিশুদের শিক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্য সহায়তায় বৈষম্য তৈরি হলে তারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ