শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে ‘পাবলিক পরীক্ষা’ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা, জালিয়াতি বা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোনসহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে।
এসব পরিবর্তন যুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত খসড়ায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় জালিয়াতি বা পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধ হস্তক্ষেপকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা জালিয়াতির চক্র গঠন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আজ (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় অনেকাংশেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগুলো আইনের আওতার বাইরে থাকায় নতুন করে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে নকল ও অনিয়মমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে আইনটি দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, খসড়া আইনটি জনমত যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে এটি উপস্থাপন করা হয়নি।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ