ইলিশের সেই পুরনো সুদিন আবার ফিরে আসবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর শহরের পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে ইলিশের প্রাচুর্য অনেকটাই নির্ভর করে জেলেদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর। একসময় দেশের মোট মাছ উৎপাদনের বড় অংশজুড়ে ছিল ইলিশ—প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু নির্বিচারে জাটকা নিধনের ফলে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ লাখ মেট্রিক টনে। পরে কিছুটা বেড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে এসে স্থির হয়ে যায়।
তিনি বলেন, “এখন যদি কার্যকরভাবে ইলিশ সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে রূপালি ইলিশের সেই সোনালি দিন আবার ফিরে আসবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম ও জাটকার প্রধান অভয়াশ্রম চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী, যা দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ও অন্যান্য পোনা নিধন চলতে থাকলে দেশে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে।
জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, তাদের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, জেলেদের জীবিকার জন্য নদীতে যাওয়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, কোস্ট গার্ডের রিজিওনাল ডাইরেক্টর ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেলী রুশদী এবং মৎস্যজীবী প্রতিনিধি আমিন শেখ জিলানীসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী তিন নদীর মোহনা পরিদর্শন করেন এবং জেলেদের সঙ্গে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, জাটকা সংরক্ষণের জন্য প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে অক্টোবর মাসে নির্দিষ্ট সময় দেশের ৬টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এপ্রিল মাসে এক সপ্তাহব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি পালিত হয়, যার জাতীয় আয়োজন এবার চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ