ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলাররা। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কাজিরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাপুর এলাকার মোহাম্মদ উল্যাহ দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই যমুনা ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ ও বিক্রি করে আসছিলেন। শনিবার সকালে সিলিন্ডার বিক্রির সময় ডিস্ট্রিবিউটর ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।
সোনাগাজী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা একটি সিআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর হোসেন বলেন, তদন্তকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং তিনি অনুমোদিত এলপিজি ব্যবসায়ী নন।
ক্ষতিগ্রস্ত ডিস্ট্রিবিউটর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন আরিফ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন পাম্প থেকে গ্যাস রিফিল করে এবং বাইরের জেলার ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার এনে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করেও নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে পারছি না, ফলে মূলধন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।”
সোনাগাজীর অনুমোদিত ডিলার আব্দুল হাই জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করার পাশাপাশি ২০২৫ সালে ফেনীর আদালতে মামলা করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি কার্যক্রম বন্ধ করেননি। এর আগে একবার অবৈধ গ্যাস বিক্রির দায়ে তার একটি গাড়ি আটক করা হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অবৈধভাবে গ্যাস রিফিল ও বিক্রি করলে সিলিন্ডারের মান ও চাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক না থাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, তিনি বারইয়ারহাট এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন এবং তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও মৌখিক অনুমতি ছিল বলে দাবি করেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন এবং বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
আটকের পর দেওয়া লিখিত মুচলেকায় তিনি ভবিষ্যতে বৈধ ডিলারশিপ গ্রহণ করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ বিষয়ে ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী মো. আলমগীর বলেন, এলপিজি গ্যাস সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস বিক্রি ভোক্তা অধিকার ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংক্রান্ত আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ