সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর এলাকায় ‘দক্ষিণা সিটি’ আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আগের অভিযোগের ধারাবাহিকতায় এবার আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল ভরাট ও জমি দখলের পর এখন সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিবারকে লক্ষ্য করে তাদের বসতবাড়ির চারপাশের রাস্তাঘাট কেটে ফেলা হয়েছে, ফলে তারা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জরুরি পরিস্থিতিতেও বের হওয়ার পথ সীমিত হয়ে পড়েছে।
একজন ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু বাসিন্দা বলেন,
“আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। বাড়ির চারপাশের রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে, যেন আমরা কোথাও যেতে না পারি। আমাদের ওপর এমন চাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আমরা বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাই।”
আরেকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,
“সব যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিলে আমরা একপ্রকার বন্দি হয়ে যাই। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাদের হুমকি দেয়—কেন আমরা এখানে আছি। ভয়ের কারণে আমরা কোথাও মুখ খুলতে পারি না।”
এদিকে, নতুন করে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় অবস্থিত একটি পুরোনো মন্দিরের চারপাশে প্রায় ১০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ফেলা হয়েছে। একইভাবে, নিকটস্থ বিদ্যুতের খুঁটির গোড়াতেও মাটি সরানো হয়েছে, যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা যদি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এক বাসিন্দা বলেন,
“আমরা যদি কোথাও অভিযোগ করি, তখন আমাদের ভয় দেখানো হয়—যেন আমরা চুপ থাকি।”
পরিস্থিতির চরম হতাশা প্রকাশ করে এক সংখ্যালঘু বাসিন্দা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেললেও ভালো, কিন্তু প্রতিদিন এভাবে অত্যাচার সহ্য করা সম্ভব নয়।”
এলাকাবাসীর মতে, বিষয়টি শুধু জমি দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন স্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হোক। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শনিবার বিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম হোসেন বিষয়টি দেখবেন বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ