সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ওই বিবৃতিতে তিনি ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে এই ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িচালককে দায়ী করেন। এমনকী তার প্রথম স্ত্রী, দাবিকৃত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।
তবে এশিয়া পোস্ট মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা সংগ্রহ করেছে যেটিতে গাজী নজরুল ইসলাম এমপি কর্তৃক গত ২২ জুন তারিখে স্বাক্ষর করা সুপারিশ রয়েছে। বায়োডাটাটিতে এমপির স্বাক্ষরের উপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে, ‘জোর সুপারিশ করছি’। বায়োডাটাটিতে মরিয়ম খাতুনের বৈবাবিহক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে। তবে চলতি বছরের ১৭ জুন বিয়ের দাবি করে থাকলেও ২২ জুন এমপি কর্তৃক স্বাক্ষরিত মরিয়মের বায়োডাটাতে ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম ইসলামের বিয়ের কাবিননামার ছবি এসেছে এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের হাতে। ওই কাবিননামায় দেখা যায়, ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম। এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, মরিয়ম খাতুন নামের ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামী নজরুল ইসলাম পারিবারিকভাবেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন, তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
এদিকে অন্য একটি ভিডিও বার্তায় মরিয়ম আক্তার নামের ওই নারী দাবি করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তার স্বামী। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ভিডিওটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তার স্বামীর সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।
একই ভিডিও ক্লিপে মরিয়মের বাবা দাবি করা এক ব্যক্তি জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়েতে নজরুলের প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ঘটনায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৩ জুলাই আমার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে শ্বশুর (দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা) মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।
আমাদের অবস্থানকালে জোহরের নামাজের আগে গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরবর্তীতে তিনি ৫-৭ জন অপরিচিত লোককে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করেন। আমাদের জিম্মি করে তারা ১ লাখ টাকা আদায় করেন। ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে আমার ব্যবহৃত ভাড়া করা গাড়িটি আটকে রেখে দফায় দফায় আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন হুমকি দেন। পরে জানতে পারি, আমার শ্বশুরের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের ভিডিওটি অরিজিনাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জেলা জামায়াতের পরবর্তীতে হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বাবার বাসভবনে আমার বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।
যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ