মোহাম্মদ অলিউল্লাহ খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের পাইকপাড়া ননী সাহা রোড সংলগ্ন তিতাস নদীর তীর আজ এক চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। কালের সাক্ষী এই নদীটি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তীরবর্তী এলাকাটি এখন ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষার বদলে চলছে নির্বিচারে দখল ও দূষণের মহোৎসব।
একসময় যে নদীর দুই তীর জুড়ে ছিল প্রাণের স্পন্দন, আজ সেখানে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে ময়লার বিশালাকার পাহাড়। নদীর বুক জুড়ে এই অবহেলা শুধু পরিবেশই ধ্বংস করছে না, বরং জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এই যত্রতত্র ফেলা ময়লা-আবর্জনা ও পচনশীল বর্জ্যের কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে; দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু দেশীয় মাছ।
যে নদীর প্রশান্ত বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে প্রতিদিন সকালে মানুষ হাঁটতে আসত, আজ সেই বাতাস এতটাই বিষাক্ত যে মানুষ এপাশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ময়লা ফেলার পাশাপাশি নদীর তীরভূমি অবৈধভাবে দখলের হিড়িকে তিতাস আজ সংকুচিত হয়ে আসছে।
অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাসের সেই তিতাস আজ বিলীন হওয়ার পথে। যে নদীকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে কত গল্প, সাহিত্য, নাটক ও সিনেমা, তা আজ তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে। অথচ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এভাবে আর কতদিন চলবে এই দখলের মহোৎসব? এই নিষ্ঠুর পরিবেশ ধ্বংসের হাত থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি চায়।
কালের বিবর্তনে তিতাস নদী সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই সম্মিলিতভাবে এটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নদীর তীরে ময়লা ফেলা চিরতরে বন্ধ করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দ্রুত পুনর্খননের মাধ্যমে এর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এখন দাবি। তিতাস বাঁচলে বাঁচবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণপ্রকৃতি ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ