বিশেষ প্রতিনিধি:
ফেনীতে বাল্যবিয়ে নিবন্ধনসহ নিকাহ ও তালাক নিবন্ধনের বালাম বহিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এক নিকাহ ও তালাক নিবন্ধককে (কাজী) শোকজ করেছেন জেলা রেজিস্ট্রার। অভিযুক্ত কাজী হলেন মো. শাহজাহান। তিনি ফেনী পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ ও তালাক নিবন্ধকের দায়িত্বে রয়েছেন।
গত ২ আগস্ট ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে তাকে নোটিশ পাওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০২০ থেকে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তার নিবন্ধন করা সব বালাম ও তালিকাবহি কার্যালয়ে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাজী মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে বাল্যবিয়ে নিবন্ধনসহ নিকাহ নিবন্ধনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তার ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ৫২ নম্বর নিকাহ নিবন্ধন-সংক্রান্ত বালাম বহি তলব করা হয়। পরে তিনি নিজে ওই বালাম বহি জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বালাম বহিটি পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বালাম বহিতে নিকাহ নিবন্ধকের স্বাক্ষর না থাকা, নিকাহ নিবন্ধনের তারিখ ধারাবাহিকভাবে না লেখা, ২০২৬ সালের পর ২০২৫ সালের নিকাহ নিবন্ধন সম্পাদনের মতো গুরুতর ত্রুটি এবং কোনো কোনো পৃষ্ঠায় শুধু বর-কনের স্বাক্ষর রেখে অন্যান্য কলাম ফাঁকা রাখার বিষয়ও পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বালাম বহিতে বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যক্তির নাম, সংকেত ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে রাখার মতো অনিয়মের কথাও শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত কাজীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। একই ধরনের অনিয়ম তার অন্যান্য বালাম বহিতে হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শোকজের জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে মর্মে গণ্য করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ফেনী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই কিশোর-কিশোরীদের পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতাও বেড়েছে। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কিশোরী জানান, তিনি একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি পরিবার জানতে পেরে তাকে বাধা দিলে তিনি পরিবারের অজ্ঞাতে এক আইনজীবীর চেম্বারে গিয়ে বয়সের এফিডেভিট করেন। পরে একজন কাজীকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তাদের বিয়ে পড়ানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। কয়েক দিন পর তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে। পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিয়ের ঘোষণা দেন।
ওই কিশোরীর দাবি, বয়সের এফিডেভিটের মাধ্যমে ফেনীতে অনেকেই বিয়ে করছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত কাজী মো. শাহজাহান বলেন, তিনি শোকজের কপি পেয়েছেন। তার ভাষ্য, জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতেই বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে যাচাই করা হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি যাচাই করার প্রযুক্তি তাদের হাতে নেই।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ ও তালাক নিবন্ধক কাজী মো. শাহজাহানকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিকাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ