সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে গত ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়নের শুরুতেই দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম, বাড়তি খরচ, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
বিআরটিএর অনুমোদিত ২৭টি ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক যানবাহনের রিয়েল-টাইম লোকেশন ও রুটসংক্রান্ত তথ্য বিদেশি সার্ভারে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঙ্গ সংবাদ-এর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সার্ভার যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভারত, লিথুয়ানিয়া ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ের লোকেশন ডেটা বিদেশি অবকাঠামোর মাধ্যমে সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
শুধু তথ্য নিরাপত্তা নয়, জিপিএস ডিভাইসের দাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাজারে ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এমন সাধারণ ডিভাইস পরিবহনমালিকদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে মাসিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জও নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া জাল জিপিএস সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ফিটনেস নবায়ন এবং মাত্র এক মাসের সার্ভিস নিয়ে দীর্ঘ সময় ফিটনেস সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ফিটনেস নবায়নসহ বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা নিতে হলে এখন সচল জিপিএস ডিভাইসের সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সনদ নিতে হচ্ছে বিআরটিএ অনুমোদিত ২৭টি ভিটিএস প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
বিটিআরসির ওয়েবসাইটে ৫০টির বেশি ভিটিএস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও কোন প্রক্রিয়ায় গণপরিবহনে ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপনের জন্য ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিআরটিএর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিআরটিএর পরিচালক অপারেশন মমতাজ বেগম বলেন, বিটিআরসি যেসব প্রতিষ্ঠানকে ভিটিএস স্থাপনের লাইসেন্স দিয়েছে, তাদেরই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিটিআরসির ভিটিএস লাইসেন্সিং নীতিমালায় আন্তর্জাতিকভাবে ভয়েস বা ডেটা ট্রাফিক বহন বা পাঠানোর বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। নীতিমালার ৫.০৫ ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
বঙ্গ সংবাদ-এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ভিটিএস প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করছে।
প্রাপ্ত আইপি ঠিকানা বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভার যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, লিথুয়ানিয়া, ভারত ও জার্মানিতে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদেশি সার্ভার ব্যবহারের ফলে কী ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করা সড়ক নিরাপত্তা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শুধু গাড়িতে জিপিএস ডিভাইস বসালেই হবে না।
তার মতে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহনের রিয়েল-টাইম অবস্থান, চলাচলের ইতিহাস, রুট ও সময়সংক্রান্ত তথ্য তৈরি হবে। প্রায় ১০ লাখ যানবাহন এ ব্যবস্থার আওতায় এলে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় লোকেশন-ডাটা অবকাঠামোতে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভার ও ডাটা সেন্টার কোথায়, ডেটার মালিক কে, কারা ডেটা ব্যবহার করতে পারবে, ডেটা এনক্রিপশন, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, অডিট লগ, সাইবার নিরাপত্তা মনিটরিং, ব্যাকআপ ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।
বিদেশি ক্লাউড বা তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহার করা হলে ডেটা কোথায় যাচ্ছে এবং কোন দেশের আইন বা এখতিয়ারের অধীনে থাকছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞের মতে, একজন মানুষের নিয়মিত চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে তার বাসস্থান, কর্মস্থল, দৈনন্দিন অভ্যাস ও চলাচলের ধরন সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব। ফলে এ ধরনের তথ্য ফাঁস বা অপব্যবহার হলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও টার্গেট ক্রাইমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নীতিমালা উপেক্ষা করে কীভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভিটিএস লাইসেন্স পেয়েছে—এ বিষয়ে বিটিআরসির উপপরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপনকারী কয়েকটি ভিটিএস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করছে। বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।
বিটিআরসির লাইসেন্স শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সৈয়দ মো. তৌফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে মিডিয়া শাখার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে বিটিআরসির মিডিয়া শাখায় লিখিতভাবে প্রশ্ন দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট শাখায় বিষয়টি পাঠানোর কথা জানানো হয়। তবে তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিআরটিএর মিরপুর শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১০১টি গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি বাস এবং ছয়টি থ্রি-হুইলার সিএনজি রয়েছে।
জিপিএস স্থাপনের সময় এক বাসচালক জানান, ফিটনেস নবায়নের জন্য জিপিএস লাগানো বাধ্যতামূলক হওয়ায় মালিকের নির্দেশে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের ডিভাইস লাগানো হয়েছে। বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
দাম যাচাইয়ের জন্য একাধিক ভিটিএস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ডিভাইসভেদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম এবং মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ নেওয়ার কথা জানায়।
আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোরজি ভেহিক্যাল জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইসের কিছু মডেলের দাম ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। উন্নতমানের কিছু ডিভাইসের দাম অবশ্য আরও বেশি হতে পারে।
থ্রি-হুইলারসহ দেশে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ধরে হিসাব করলে গড়ে ৪ হাজার টাকা দামে একটি ডিভাইস স্থাপনে পরিবহনমালিকদের মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া বছরে গড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেওয়া হলে আরও প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
ফলে ডিভাইস ও সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে পরিবহন খাতে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিআরটিএর সার্কেল অফিসগুলোতে পাঠানো ভেন্ডর তালিকায় তথ্য সংগ্রহ ও এপিআই সংযোগের কথা উল্লেখ থাকলেও কোন ভেন্ডরের কাছ থেকে কীভাবে তথ্য নেওয়া হবে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে—সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি সার্ভার ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞ ও নির্দিষ্ট জনবল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিআরটিএর পরিচালক অপারেশন মমতাজ বেগম বলেন, বিষয়টি এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বিটিআরসি যেসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে, তাদের ডিভাইস বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিষয়টি পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।
জিপিএস প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি রোডম্যাপ তৈরির জন্য গত জুনে বিআরটিএ ২৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ‘জিও প্ল্যানিং ফর অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ (জি-প্যাড)-কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির ড্রোন সার্ভে, জিআইএস ম্যাপিং ও নগর পরিকল্পনায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে গণপরিবহনের লাইভ জিপিএস ট্র্যাকিং, এপিআই সার্ভার সিকিউরিটি কিংবা বৃহৎ ফ্লিট ম্যানেজমেন্টের মতো জটিল আইটি অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে পূর্বঅভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জি-প্যাডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান বলেন, গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপন-সংক্রান্ত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ড্রাফট ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে।
তিনি জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ডিপিপিসহ পরামর্শক কার্যক্রম অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাজার থেকে ডিভাইস লাগিয়ে ভিটিএস প্রতিষ্ঠানের নামে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে ফিটনেসের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
মিরপুর বিআরটিএ অফিস থেকে দুটি বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নে ‘সানসিটি বিজ’ নামের একটি ভিটিএস প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তখনও কোনো সার্টিফিকেট ইস্যু শুরু করেনি এবং কোনো গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করেনি।
সানসিটির স্বত্বাধিকারী রবিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের নামে চারটি সার্টিফিকেট দেখিয়ে ফিটনেস করানো হয়েছে বলে তিনি মিরপুর বিআরটিএতে গিয়ে জানতে পারেন।
তার অভিযোগ, বিআরটিএর কাছে সার্টিফিকেট যাচাইয়ের কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু চক্র এ সুযোগ নিচ্ছে।
পরবর্তীতে সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগে এএলডি কোম্পানির হেড অব সেলস নুরুল ইসলাম নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিআরটিএ ও ভিটিএস ভেন্ডরের মধ্যস্থতায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিআরটিএ মিরপুর সার্কেলের উপপরিচালক এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটালভাবে সনদ যাচাইয়ের সুবিধা না থাকায় একটি চক্র সুযোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসের ফিটনেস বাতিল এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, অনেক বাস ও ট্রাক মালিক ফিটনেস নবায়নের ঝামেলা এড়াতে তালিকাভুক্ত ভেন্ডরের কাছ থেকে মাত্র এক মাসের সার্ভিস প্যাকেজ নিচ্ছেন। সেই সনদ দেখিয়ে ফিটনেসের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
ফলে এক মাসের পর সংশ্লিষ্ট গাড়িটি কোথায় চলছে কিংবা জিপিএস ডিভাইস সচল আছে কি না—সে বিষয়ে বিআরটিএর কাছে নিয়মিত তথ্য থাকার নিশ্চয়তা থাকছে না।
ভিটিএস সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তানজীম রহমান বলেন, অনেক বাসমালিক এক মাসের বিল দিয়ে ডিভাইস নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু বিআরটিএ তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ডেটা চায়। মালিক পরবর্তী মাসে সার্ভিস না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিআরটিএকে ডেটা দিতে পারবে না।
তিনি জানান, বিআরটিএ যদি পরবর্তী ফিটনেস পর্যন্ত সার্ভিস নেওয়া বাধ্যতামূলক করে, তাহলে নিয়মিত ডেটা সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জাল সনদ শনাক্তের জন্য তাদের পক্ষ থেকে বিআরটিএকে বিনামূল্যে সফটওয়্যার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে আগ্রহ দেখানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ সড়ক পরিবহন খাতে নতুন নয়।
২০১২ সালে গাড়ি চুরি রোধ ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের উদ্দেশ্যে আরএফআইডি ট্যাগসহ ডিজিটাল নম্বর প্লেট চালু করা হয়। গাড়িপ্রতি আড়াই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ফি নেওয়া হয়। গত ১৪ বছরে এ খাত থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি আদায় হলেও প্রত্যাশিত সেবা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এরপর ২০২১ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ শনাক্তের জন্য সিসিটিভি এবং ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
প্রায় ১৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কের ১৪৭টি লোকেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও কেন্দ্রীয় সার্ভারের সংযোগের অভাবে ক্যামেরাগুলোর বড় একটি অংশ বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে নতুন জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও যদি পরিকল্পনা, তথ্য নিরাপত্তা, সার্ভার ব্যবস্থাপনা, সনদ যাচাই এবং নিয়মিত তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সড়ক নিরাপত্তা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ