জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৩ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ী সর্দারপাড়া এলাকায় বসতভিটার জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. মফিজ প্রামাণিক (৫৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বানিয়াবাড়ী সর্দারপাড়া বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর পরদিন, ১০ সেপ্টেম্বর, মফিজ প্রামাণিক বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মো. মমতাজুর রহমান সর্দার (৬৫), মো. গেন্দর আলী (৫৭), মো. রশিদ সর্দার (৬৫), মো. বাদশা সর্দার (৪৮), মো. জাহিদুল ইসলাম (৩৮), মো. জাহাঙ্গীর (৩০), মো. তারিপ উদ্দিন সেক (৫৭) ও মোছা. মনেজা বেগম (৫৪)।
লিখিত অভিযোগে মফিজ প্রামাণিক দাবি করেন, বানিয়াবাড়ী মৌজার বিআরএস ১৭৯ নম্বর খতিয়ানের ১১৬৭ নম্বর দাগে প্রায় ২৪১/৪ শতাংশ জমি তিনি ২০০৩ সালে ক্রয়সূত্রে মালিকানা লাভ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। প্রায় ১০ মাস আগে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
মফিজ প্রামাণিকের অভিযোগ, সম্প্রতি অভিযুক্তরা তার বসতঘর ভেঙে রাস্তা নির্মাণের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে চাপ দিতে থাকেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালে অভিযুক্তরা পুনরায় টাকা ও রাস্তার জন্য জায়গা দাবি করেন। এতে মফিজ প্রামাণিক রাজি না হলে অভিযুক্তরা দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে জমি দখলের চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাঁশের খুঁটি সরিয়ে ফেললে মফিজ প্রামাণিক ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ১০ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, জমিটির সামনের অংশে বালু ও বালুর বস্তা রাখা রয়েছে। ভুক্তভোগী মফিজ প্রামাণিকের দাবি, জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যেই সেখানে এসব সামগ্রী রাখা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মেলান্দহ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ