গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা এখন দুর্নীতি, ঘুষ আর মামলা বাণিজ্যের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাণিজ্য, দুর্নীতি ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত গোবিন্দগঞ্জ থানা অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দাড়ঁ করিয়েছেন ১২ সেপ্টম্বর শনিবার উপজেলা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গোবিন্দগঞ্জ চেয়ারম্যান এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউক, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক জাহিদসহ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিনিধিগন।
নাম প্রকাশ না করে থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও তিনজন এসআইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে গভীর রাতে অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ারু, সাইবার অপরাধী, হ্যাকারদের মুক্তি দেওয়া, মামলার ধারা পরিবর্তন করা এবং মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়াসহ চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ দাড়ঁ করিয়েছেন। মাত্র কয়েক মাসের দায়িত্বে তারা থানাকে এক ঘুষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন বলে দাবি ইউপি প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের। আরও জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে শো রেখে দুর্নীতি, ঘুষ আর মামলা বাণিজ্যের এক অভয়ারণ্যে পরিণত করে থানা পরিচালনা করছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিচ পদস্থ কর্মকর্তাগন।
অনুসন্ধানে ওসি তদন্তসহ চার জনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। যদিও পুলিশের হয়রানির ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে রাজি হননি, তবে কয়েকজন ভুক্তভোগী তার ঘুষকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর গোবন্দগঞ্জ থানায় ঘুষের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু ওসি তদন্ত যোগদানের পর থেকেই পুরোনো সেই দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্কৃতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এখন টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না বললেই চলে। গভীর রাতে থানার ভিতরে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র গড়ে ওঠে। তারা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে এবং অর্থের বিনিময় কাজ করিয়ে দেয়। যা কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সন্দেহভাজন হিসেবে সাধারণ মানুষকে আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গোবন্দগঞ্জ থানার এই বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার প্রধান অতিথি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এমপি মহদ্বয় কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে মিটিং এ উপস্থিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে এ বিষয়ে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন ও প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফারুক আহম্মেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মওলানা আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনু, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর লেলিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দ, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউক, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক জাহিদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আহসান হাবিব প্রিন্স, রাজাহার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, শাখাহার ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরনহ বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগন।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ