সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকারি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ছাত্রী নেই। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সরকারি বেতন-ভাতা অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চত্বরে সুনসান নীরবতা। কোনো ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। একটি কক্ষে ৮ জন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা যায়। দুজন কর্মচারী ছিলেন বাইরে। শ্রেণিকক্ষগুলোও ছিল ফাঁকা।
বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে ১২২ জন ছাত্রীর নাম থাকলেও সরেজমিনে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০ জন ছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে ছাত্রী না থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা কমেনি এবং এমপিও সুবিধাও বহাল রয়েছে। শিক্ষার্থী না থাকা অবস্থায় সরকারি অর্থে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদের কাছে শিক্ষার্থী না থাকার কারণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। সরকার অন্যত্র বদলি করে দেবে—এমন বিধান আছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে কোনো মতবিনিময় সভা বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারব না।’’
এদিকে বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার মণ্ডল, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম, সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথসহ কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পৈয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। শিক্ষকরা প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা সুবিধা পেলেও শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত পরিচালিত হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, ‘‘বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী নেই—বিষয়টি আমি জানি। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুজ্জাহান কনক বলেন, ‘‘বিষয়টি তদন্ত করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
শিক্ষার্থীশূন্য একটি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কীভাবে চলমান রয়েছে—এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে বিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিস্থিতি ও এমপিও সুবিধা অব্যাহত থাকার কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ