ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেছেন, শিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা এবং কারিকুলাম সবই বাড়ছে ও আধুনিকায়ন হচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা সার্টিফিকেট অর্জন নয়, শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের আচরণগত পরিবর্তন ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। ময়মনসিংহ শহরের এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দোষারোপ না করে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও ব্যর্থতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তরুণদের সম্মান করতে শেখাতে হলে প্রথমে তাদের সম্মান দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষকরা একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তনের পাশাপাশি সহকর্মীদের পেশাগত উৎকর্ষতা বাড়ানো এবং পুরো প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। একজন প্রধান শিক্ষককে শুধু প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নয়, একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষার মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষার ফলাফল, জিপিএ বা বৃত্তি অর্জনকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কী শিখছে, তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ কতটা বিকশিত হচ্ছে এসব বিষয়ও শিক্ষার মান নির্ধারণে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চা, বিতর্ক, শিল্প-সংস্কৃতি, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা, কুইজ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা চিহ্নিত ও বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এর জন্য বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন নেই প্রয়োজন উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ। জেলা প্রশাসক বলেন, মনিটরিং শুধু তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যকর মনিটরিং নয়। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তব অবস্থার পার্থক্য বা গ্যাপ চিহ্নিত করতে হবে, এরপর কেন সেই গ্যাপ তৈরি হয়েছে তা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষার্থী কোথায় দুর্বল, কেন দুর্বল এবং কীভাবে সেই দুর্বলতা দূর করা যায় তা ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য শুধু বিদ্যালয় পরিষ্কার করা নয় বরং ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা তৈরি করা। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহকে শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত করা হয়। এ পরিচিতি ধরে রাখতে হলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক ও পরীক্ষার ফলাফলের বাইরে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন। এ সময় তারা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষণ পদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার এবং ময়মনসিংহ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ