আকাশে কাশফুলের দোলা আর শিউলি ঝরা সকাল জানান দিচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মণ্ডপ ও মৃৎশিল্পীদের কারখানায় ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। মাটির ছোঁয়ায় দেবী দুর্গাকে মূর্ত রূপ দিতে দিন-রাত দম ফেলার ফুসরত নেই বাঁশখালীর মৃৎশিল্পীদের।
শাস্ত্রমতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আবাহন ঘটবে এবং ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল উৎসবের দিনগুলো। কারিগরদের হাতের নিপুণ তুলিতে দেবী দুর্গা মর্ত্যে নেমে আসার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন বাঁশখালীর হাজারো ভক্তপ্রাণ মানুষ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাঁশখালী শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঁশখালী উপজেলার ১টি পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে সর্বমোট ৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা এবং পারিবারিক বা ঘরোয়াভাবে ১৮৯টি ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি। ইতিপূর্বেও পূজা উদযাপন পরিষদের বাঁশখালী উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন অ্যাডভোকেট শেখর দত্তের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ পরিদর্শন করেন।
বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর, সাধনপুর, বাণীগ্রাম, বৈলছড়ী ও পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয়টি প্রতিমা তৈরির প্রধান কারখানা রয়েছে। সরেজমিনে কারিগরদের পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজ শেষ। এখন চলছে নিখুঁতভাবে কাদামাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। এরপর শুরু হবে রংকরণ এবং প্রতিমা সাজানোর মূল আকর্ষণীয় পর্ব।
কালীপুর এলাকার প্রতিমা শিল্পী পিন্টু আচার্য্য জানান, এ বছর তিনি বাঁশখালী ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৩০টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। তিনি বলেন,"বাঁশ,খড়,সুতলি এবং রঙের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুপাতে আমাদের পারিশ্রমিক বা প্রতিমার দাম বাড়েনি। তবুও বংশানুক্রমিক এই পেশা এবং দেবীর প্রতি ভক্তি থেকে আমরা প্রতি বছর অধীর আগ্রহে এই দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করি। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সব মণ্ডপের প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে পারব।"
এদিকে উপজেলার প্রধান প্রধান মণ্ডপ গুলোতেও শুরু হয়েছে জমকালো প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার প্রাথমিক কাজ। বাঁশখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক বলেন,"বাঁশখালী সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরের মতো এবারও দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, পূজা মণ্ডপ গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উৎসব চলাকালীন প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ