মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কামতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতরা হলেন—জোনাব আলী (১০৫), তাঁর ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৬৫), নাতি আনোয়ার হোসেন (৪০), দেলোয়ার হোসেন (২৭) ও পুত্রবধূ রাশেদা বেগম (৫৫)। অপর পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেম (৫০) আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কামতা মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে জোনাব আলী ও মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
এরই মধ্যে বিরোধপূর্ণ জমির পাশ দিয়ে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তার প্রবেশ পথ বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশা পাশি মোহাম্মদ আলীর পরিবারের লোকজনও আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগ করা হয়। দুই পক্ষকে নিয়ে সালিসে বসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে মোহাম্মদ আলী, তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেমসহ কয়েকজন ওই ছাপড়া ঘরটি ভেঙে রাস্তা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের সাতজন আহত হন।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোনাব আলীর নাতি সুজন হোসাইন বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর পরিবার জমিটির মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
সুজনের অভিযোগ, ‘আমরা আমাদের জমিতেই ঘর তুলেছি। তারা ঘর ভেঙে দেওয়ার সময় আমার চাচা আব্দুল মোন্নাফ, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচি রাশেদা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন আহত হন।’অন্যদিকে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আলী ও আবুল হাশেমের দাবি, জমিটি তাঁদের পরিবারের। জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন জমি দখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার সকালে তাঁরা ঘরটি ভেঙে রাস্তা খুলে দিতে গেলে জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন তাঁরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম কামতা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটি চলে গেছে। রাস্তার পশ্চিম পাশে প্রায় ১০টি পরিবারের বসতি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাসী মিলে দীর্ঘদিন আগে রাস্তাটি তৈরি করেন। সম্প্রতি প্রবেশপথ বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণের পর থেকে ওই পরিবারের লোকজনকে ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৭০ বছর বয়সী বাবুল বলেন, ‘আমি চোখে দেখি না। এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতাম। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন খেতের আইল দিয়ে অনেক ঘুরে যেতে হয়। কষ্টের কারণে বাড়ি থেকেও বেশি বের হই না।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন জানান, রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কামতা গ্রামে রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ