পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে আইজিপি ইতোমধ্যে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গতকাল (২৬ অক্টোবর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ সদর দপ্তর সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশ প্রধান ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো শাস্তিকে বোঝাননি।
এরপর পুলিশ সদর দপ্তর দ্বিতীয় আরেকটি বিবৃতিতে আগের ব্যাখ্যা সংশোধন করে। এতে বলা হয়, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের অঙ্গীকার বোঝাতেই আইজিপি শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আইজিপি আসলে তাঁর বক্তব্যে যেটা বোঝাতে চেয়েছেন, সেখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।”
আইজিপির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আইজিপির ব্যাপারে যদি অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বিবেচনা করবেন।”
এর আগে দিনের শুরুতে ঢাকায় একটি ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার করতে পুলিশ দ্বিধা করবে না।’ গণমাধ্যমে তাঁর এ বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফন ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “তাঁর জানাজা ও দাফন ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড দুঃখজনক। একজনের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কারও পছন্দ হয়নি।”
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গতকাল রংপুরে এক যুবকের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দেশে চরমপন্থীরা গায়ের জোর দেখাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কারও বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে এভাবে অনলাইনে ভাষণ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার কমিটিতে অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা আপত্তি নথিভুক্ত করা হয়েছিল, সরকার সেগুলো নিয়েও কাজ করবে।
তিনি জানান, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় এসব মতপার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ