ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় বাদীর দেওয়া আসামিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। তিনি বলেন, তদন্তে বাদীর দেওয়া নামগুলোর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারে। তবে বাদীর দেওয়া নাম ইচ্ছামতো বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়ে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের কবর জিয়ারত শেষে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বৃষ্টিতে ভিজে কবর জিয়ারত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।
ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, “বাদী যে নাম দিয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা করতে বলা হয়েছে—তখনই আমি ওসি ও এসপিকে জানিয়েছি। তদন্তে যদি দেখা যায়, বাদীর দেওয়া নামগুলোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি, তাহলে আপনারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেন। কিন্তু বাদী নাম দিয়েছে, আপনি তা বাদ দিয়ে দেবেন—এটা বেআইনি। এটা আপনি করতে পারেন না।” এ বিষয়ে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শাকিলকে দেখতে পিজি হাসপাতালে যাওয়ার সময় তাঁর বাবা পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পুলিশ শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করলে অনেক তথ্য দ্রুত জানা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে পুতুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জানাজার পর যেসব জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোও যেন আর না ঘটে। হত্যাকাণ্ডে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, “অপরাধী অপরাধীই। তার কোনো দল নেই, দেশ নেই, পরিচয় নেই। ইনশাআল্লাহ, সে সাজা পাবে।” শাকিল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ওপর মানসিক চাপ ও দায়বোধ থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত শেষে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এ সময় তিনি শাকিল হত্যাকাণ্ডে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেল ও তাঁর বাহিনী সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁদের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি এ ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রাকিব। তিনি রাসেল ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা শাকিলকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শাকিলের বাবা মামলা করেন। তবে শুরুতে গ্রেপ্তার না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নাটোর ও গুরুদাসপুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জনগণের বিক্ষোভের মুখে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২৭ অক্টোবর রাতে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হাসপাতাল থেকে গুরুদাসপুরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার জন্য আনা হয়। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন। জানাজায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বক্তব্য দিতে গেলে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা বলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় এমপি আজিজের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ। তবে ছেলের ফাঁসি হলেও তিনি জনগণের সঙ্গেই থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারের একটি শপিংমলে মুখোশধারীদের হামলার ঘটনা ঘটে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ