২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি গ্রহণ করবেন। এর আগে গত ৭ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে। এর আগে গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ ছাড়া সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নামও রয়েছে পলাতক আসামিদের তালিকায়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও সন্ধান না পাওয়ায় নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পলাতক ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ