রাতভর ঘুমানোর পর সকালে ঘুম ভাঙতেই মাথাব্যথা অনেকেরই হয়ে থাকে। কারও মাথা ভার লাগে, আবার কারও কপাল বা মাথার এক পাশে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই একে ঘুমের ঘাটতি, পানিশূন্যতা কিংবা মানসিক চাপের কারণে হচ্ছে বলে মনে করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথার সঙ্গে দেখা দেওয়া বিশেষ উপসর্গ হতে পারে স্ট্রোকের সতর্কসংকেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে মাথাব্যথা হলেই সেটিকে স্ট্রোকের লক্ষণ মনে করার কারণ নেই। তবে স্ট্রোকের কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে স্ট্রোক নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা তুলে ধরেছেন।
অনেকের ধারণা, স্ট্রোক হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবেই। কিন্তু চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা দেখা যায় না। অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই স্ট্রোক হতে পারে।
হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই শুধু মাথাব্যথার ওপর নির্ভর করলে স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ অজানা থেকে যেতে পারে।
স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ—এমন ধারণাও সঠিক নয়। বর্তমানে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুম স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বয়স কম হলেও স্বাস্থ্য সচেতন থাকা, নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
হঠাৎ মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ কয়েক মিনিট পর স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এতে বিপদ কেটে গেছে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, এসব সাময়িক উপসর্গ ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের আগাম সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই উপসর্গ চলে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মাথাব্যথা বা শরীরে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে অনেকেই বিশ্রাম নেন কিংবা ঘরোয়া উপায়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে।
চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।
১. হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই আচমকা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হওয়া, বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা মনে হলে।
২. শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া: হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশের শক্তি কমে যাওয়া।
৩. কথা জড়িয়ে যাওয়া: হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
৪. দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দৃষ্টি হারানো।
৫. বিভ্রান্তি, বমি বা খিঁচুনি: মাথাব্যথার সঙ্গে হঠাৎ বিভ্রান্তি, বারবার বমি কিংবা খিঁচুনি দেখা দেওয়া।
এ ছাড়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্ট্রোকের উপসর্গ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা BE-FAST পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। এতে ছয়টি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।
প্রতিদিন সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলে এর ধরন ও সম্ভাব্য কারণ খেয়াল করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে কি না কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ কাজ করছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে।
নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি। তবে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা কিংবা স্ট্রোকের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ