গাজীপুর নগরীর চক্রবর্তী এলাকায় বেক্সিমকোর কারখানায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় পার্শ্ববর্তী পানিশাইল এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা আরেকটি কারখানার শ্রমিকরাও বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এ সময় শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। এ সময় উত্তেজিত কিছু শ্রমিক অ্যামাজন নিটওয়্যার নামে একটি কারখানায় অগ্নিসংযোগ করেন।
শ্রমিক, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেক্সিমকোর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে গাজীপুর নগরীর চক্রবর্তী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ কারণে আশপাশের অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১ নভেম্বর থেকে পানিশাইল এলাকার ডরিন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। রোববার ওই কারখানাটি খুলে দেওয়া হলেও দুপুরের পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে কাজে যোগ দিতে এসে ডরিন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কারখানা অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এ সময় তারা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানী এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। একই সময়ে একই সড়কের পৃথক স্থানে বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকরাও অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডরিন ফ্যাশন ও বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হন। আহত শ্রমিকদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পানিশাইল ও কলতাসুতি এলাকায় ঢুকে পড়ে এলাকার লোকজনদের মারধর করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। বেশকিছু সময় ত্রিমুখী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এ সময় অ্যামাজন নিটওয়্যার নামে একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, জিরাবো এলাকায় বিগবস কারখানার সামনে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থেকে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া আশুলিয়ায় অ্যামাজন নিটওয়্যার কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার সুবীর কুমার সাহা বলেন, বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করছিলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, শিল্প পুলিশ ও মহানগর পুলিশ কাজ করে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। এ ছাড়া ওই পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ