আমাদের মুরুব্বীগণ বলতেন, বাঁচিয়াও বাঁচেনা সে লোককে যদি দোষে, মরিয়াও মরে না সে,যদি লোকে ঘোষে। দেখুন না, আমাদের সকলের সামনেই তো শেখ হাসিনা বেঁচে থেকেও মৃত, যাকে বলে জীবন্মৃত। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, আল্লামা ইকবাল, মাদার তেরেসা, নেলসন মেন্ডেলা, শহীদ তিতুমীর সহ পৃথিবীর আরো বহু গুনীজন যাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন বহু আগে; কিন্তু যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ তাদেরকে স্মরণ করে, ভালোবাসায় সিক্ত করে, তাঁরা চিরকালের জন্য মানুষের মনের মনিকোঠায় স্হান করে নিয়েছেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মর্চ (যাকে বলে কলো রাত) থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের তথা বর্তমান বাংলাদেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষ একাধারে নয়টি মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য অর্জন করেছিল। স্বাধীনতা অর্জন করে দশকের পর দশক বা যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হলেও স্বাধীনতার স্বাদ এদেশের মানুষ উপভোগ করতে পারেনি। স্বাধীনতা অর্জনের পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন যারা ক্ষমতার নাগাল পেয়েছে তখন তারা আমাদের স্বাধীনতা কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি তার উল্টোটা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাইয়ে দিয়েছে! তাই নয় কি? স্বাধীনতা মানে আমরা দেখেছি, ক্ষমতার স্বাধীনতা, ক্ষমতার মসনদে বসে ছড়ি ঘোরানোর স্বাধীনতা, গুম করার স্বাধীনতা, খুন করার স্বাধীনতা, নির্যাতন করার স্বাধীনতা, ব্যাংক ডাকাতি করার স্বাধীনতা,অন্যের বউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা, অন্যের বাক স্বাধীনতা হরণের স্বাধীনতা, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের রাজনীতি বন্ধের স্বাধীনতা তথা নিষিদ্ধের স্বাধীনতা, গণ-ধর্ষণের স্বাধীনতা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপনের স্বাধীনতা, ঋণের নামে ব্যাংক সমূহকে ফোকলা করার স্বাধীনতা, মধ্য স্বত্তভোগীদের দৌরাত্বে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির স্বাধীনতা, ক্ষমতার মসনদে বসে নিজেরা এবং নিজেদের দোসরদেরকে দিয়ে মানুষের পকেটের টাকা লুটপাট করার স্বাধীনতা, খাল- বিল, নদী নালা ভরাট করে উঁচু উঁচু অট্টালিকা বা মার্কেট করার স্বাধীনতা, আয়না ঘর নামক নজিরবিহীন বন্ধি- শালা তৈরীর স্বাধীনতা, বিনা বিচারে সেই সব বন্দিশালায় বছরের পর বছর মানুষকে জিম্মি করে রাখার স্বাধীনতা,রাজবন্দীদেরকেও ডান্ডাবেড়ী পোড়ানোর স্বাধীনতা, ক্ষমতার দাপটে পত্রিকা ও মিডিয়া বন্ধের স্বাধীনতা, মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্ভট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা করার স্বাধীনতা এবং বিচারের নামে প্রহসনের বিচার প্রদর্শনী করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার স্বাধীনতা এবং ফাঁসির দড়িতে ঝুলানোর স্বাধীনতা কিংবা জবাই করার স্বাধীনতা! জুলুম আর ফ্যাসিবাদী শাসনের স্বাধীনতা !
স্বাধীনতার এমন ভয়াবহ তাণ্ডবে বহুদিন, বহু বছর এদেশের লাখো কোটি মানুষ অতিষ্ঠ ও বিক্ষুব্ধ হয়ে ২০২৪ এর ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণ তরুণীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে এদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর কষ্টের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রাজপথে এমন বাঁধ ভাঙ্গার জোয়ারের সৃষ্টি হয়, শহীদ আবু সাঈদের মত বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুলিশের নির্বিচারে গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যায়।
পুলিশকে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি বলতে শোনা যায়, "একটাকে গুলি করলে একটাই মরে, অন্যরা তো নড়ে না, দাঁড়িয়ে থাকে! " জীবনের সকল মায়া মমতা ত্যাগ করে, পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব কারো কোন সতর্কতাকে ইয়ত্তা না দিয়ে রাজপথের প্রতিবাদী জোয়ারে শামিল হয় এবং ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে এই প্রচন্ড জোয়ারের ঢেউ আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের সর্বত্র গ্রামগঞ্জ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে! স্বাধীনতার চেতনার নামে আমাদেরকে বিভক্ত করা, আমাদের জাতীয় ঐক্যকে বিনষ্ট করা, বিভেদ সৃষ্টি করা, মুক্তি যুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের গান শুনিয়ে পুরো জাতিকে বোকা বানানো এবং স্বাধীনতার নামে তামাশা দীর্ঘদিন লক্ষ্য করে মানুষ আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি ; বেরিয়ে পড়েছে দলে- দলে, হাজারে -হাজারে, নিজেদের অধিকার নিজেরা আদাইয়ের তরে। এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন লক্ষ্য করেছে তথাকথিত গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী, ভারত আমেরিকা সহ বিদেশী বন্ধুরা অনেক বুলি আউড়িয়েছে, অনেক উপদেশ দিয়েছে, অনেক নীতি বাক্য ছেড়েছে ; কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আমরা নিজেদের রক্ত দিয়ে নিজেরাই ফিরে পেতে হয়েছে।

কাল জয়ী, ঐতিহাসিক, স্মরণীয় এই বিপ্লব ঘটানোর পর ছাত্র- জনতা উৎসুক হয়ে অপেক্ষায় প্রহর গুণেছিল আপনি 'ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস' কে সাদরে বরণ করে নিতে; মানুষ দল-মত নির্বিশেষে নিজেরা রাজপথে নেমে অঙ্গ হানি করে, চোখ, কান,হাত,পা,মাথার খুলি এমনকি জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিয়ে নিজেদের স্বাধীনতাকে নিজেরা অর্জন করেছে আর অর্জিত এই স্বাধীনতার স্বর্ণ মুকুটটা আপনি ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস কে মানুষ পরিয়ে দেয়ার জন্য অপেক্ষায় দিন গুণছিল। আপনি দেশে ছিলেন না, আপনি ছিলেন প্যারিসের অনুষ্ঠিত বিশ্ব অলিম্পিকের জমকালো অনুষ্ঠানের মেহমান। ছাত্র জনতা বিপ্লব সফল করে শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে তবিতাড়িত করে ৫ আগস্ট, '২৪ থেকে আপনার অপেক্ষা করেছে ৮ আগস্ট '২৪ পর্যন্ত , আপনি দেশে আসার পর সাদরে বরণ করে নিয়েছে এবং বিজয়ের মুকুটটি আপনাকে পরিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ৮ ই আগস্ট শপথের ব্যবস্থা করেছে। আপনি কি একটু ভালোভাবে ভেবে দেখবেন? রক্তমাখা এই নির্ভেজাল বিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে আপনাকে ছাত্র জনতা এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষ সর্বান্তকরণে বরণ করেছে এবং মানুষের তখনকার যে আশা - আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্খার সাথে তাল মিলিয়ে আপনি বলতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, "আমরা পুরনো ঘুনে ধরা, পঁচা দুর্গন্ধময়, সংবিধান সহ সব সংস্কার করে নতুন ভাবে দেশকে গড়ে তুলবো ; আল্লাহ যেহেতু আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছেন, এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।" জাতির মনের নিভৃতে লুকোনো আশা- আকাঙ্ক্ষা গুলো আপনার মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছিল যা এখনো আমাদের কানে বাজে।
জাতি সর্বান্তকরণে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনাকে এভাবে বরণ করে নিয়েছিল এবং আপনিও যে বক্তব্য দিয়ে জাতিকে আশান্বিত করেছিলেন, উধ্বেলিত করেছিলেন,প্রেরণা যুগিয়ে ছিলেন । মানুষ আপনার ওই সময়কার কথাগুলোকে বুক ভরা আশা নিয়ে বাসা বেঁধেছিল।
আপনার ক্ষমতার প্রতি লোভ- লালসা নেই, বয়সও নেই, তাইতো আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী হয়েছিল যে, আপনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি পারেন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ একটা ভূমিকা রাখতে। আপনার দ্বারাই সম্ভব বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, গঞ্জনা সহ অসংখ্য অধিকার হারা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া জাতিকে উদ্ধার করতে। কেননা, জাতি ভালোভাবেই জানে, আপনার ক্ষমতার প্রতি লোভ- লালসা নেই, আকাঙ্ক্ষা নেই, নেই কোন একক দলের প্রতি একপেশে কোন ভালবাসা। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবী ব্যাপী আপনি যেভাবে বরণীয় হয়েছেন, সমাদৃত হয়েছেন, পৃথিবীতে এমন আর একজন এই মুহূর্তে আছে কি? অবশ্যই নেই। তাহলে এমন বরনীয় ব্যক্তি হিসেবে আপনি কি চিরকাল বাংলাদেশের মানুষের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান না?
আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন,"যারা আমার নিয়ামতের শোকর আদায় করবে, তাদের নিয়ামতকে আমি আরো বাড়িয়ে দেব, আর যারা নিয়ামতের শোকর আদায় করবে না বা অকৃতজ্ঞ হবে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাব। "( সূরা ইব্রাহীম আয়াত নং ৭)
আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি নিয়ামত হল এমন ক্রান্তিলগ্নে জাতির একমাত্র সিপাহসালার হিসেবে আপনাকে আল্লাহ বরণীয় করেছেন, আর জাতির প্রতি আল্লাহর নেয়ামত হলো জাতি এমন কঠিন সময়ে আপনাকে গ্রহণ করার বা বরন করার সুযোগ পেয়েছে। এই মুহূর্তে নিয়ামতের হক আদায় হবে আপনি জাতির অতীতের বিভিন্ন জঞ্জাল যেগুলো ইস্তুপ হয়ে আছে, সেগুলোকে সরিয়ে দিয়ে এমন এক সংস্কার সম্পন্ন করা, যে সংস্কারের মাধ্যমে একটা নব দিগন্তের সূচনা হবে, আমরা নতুন, গর্বিত ও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো মানবিক মর্যাদার একটা বাংলাদেশী জাতিতে উপনীত হতে পারব। আপনি কারো বক্তব্যে বা কোন দলের প্রেসারে দুর্বল হয়ে পড়ার কিছু নেই, দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত হওয়ার কিছু নেই, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। মানুষ শুধুমাত্র একটা নির্বাচনের জন্য এত রক্ত ঢেলে দেয়নি, এত পঙ্গুত্ববরণ করেনি বা এত জীবন উৎসর্গ করেনি ; বরং এতসব উৎসর্গ করেছে যাতে একটা নতুন জাতি এবং নতুন দেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়, যাতে করে আর মানুষকে বিক্ষোভ করে দাবী আদায় করতে না হয়, আন্দোলন করতে না হয়, মানবিক অধিকার খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হতে না হয়, ভোটাধিকার খুঁজতে না হয়, সু-বিচারের জন্য হাহাকার করতে না হয়, গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য রাজপথ প্রকম্পিত করতে না হয়, মানবিক মর্যাদার জন্য আর চিৎকার দিতে না হয়, নাগরিকের অধিকারের জন্য বুক ভরা আর্তনাদ করতে না হয়। আপনি একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন, কারো কারো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে একটু শক্ত হয়ে দাড়ান; প্রয়োজনে একটি নিরপেক্ষ গণভোটের আয়োজন করে আপনি সংস্কারের পক্ষে জাতির মতামত গ্রহণ করুন, নতুবা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা দলগুলোকে সাথে নিয়ে এবং আগস্টের বিপ্লবের স্টেক হোল্ডারদের সাথে নিয়ে একটি সম্মিলিত জাতীয় সরকার গঠন করে সময় নিয়ে অপরিহার্য সংস্কারের কাজে হাত দিন; তবুও মৌলিক সংস্কার গুলো শেষ না করে একটা নির্বাচন দিবেন না।
তাড়াতাড়ি করে একটা নির্বাচন দিয়ে চলে গেলে জাতির কাছে আপনি বরণীয় হয়েছেন বটে; কিন্তু স্মরণীয় আর থাকবেন না । যদি এই শেষ কাজটি করে যেতে পারেন তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া আপনার উপরে অর্পিত নিয়ামতের যেমন শোকর আদায় হবে বা হক আদায় হবে, তেমনি বাংলাদেশী জাতির নিকট আপনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এমনটাই জাতির প্রত্যাশা । আর আপনি সংস্কার গুলো করে যাবেন জাতি সেগুলো সাদরে গ্রহণ করার মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। আপনার মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে বসার কোন আকাঙ্ক্ষা কোনোকালেই ছিল না, আর ক্ষমতা পাওয়ার পর এটাকে আঁকড়ে রাখার কোন ইচ্ছা বা বাসনা আপনার এখনো নাই; এটা পুরো জাতি ভালোভাবে জানে। কেননা, আপনি সারা দুনিয়ায় নিজের শ্রম, ঘাম, মেধা, যোগ্যতা আর আল্লাহর রহমতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, গৌরবের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েছেন। কোন দলের, কোন গোষ্ঠীর কিংবা কোন দেশের অনুকম্পায় আপনি কৃত্তিমান হন নি; আপনি স্বীয় কীর্তিতে কীর্তিমান, স্বীয় মহত্ত্বে মহীয়ান।
মহাপরাক্রমশালী রব্বুল আলামিনের নিকট অনুনয়-বিনয় করে, কায়মনো বাক্যে ফরিয়াদ জানাই রব্বুল আলামিন আপনি (ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস) যেন যে কোনো প্রতিবন্ধকতা ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করে এই কাজটুকু সম্পন্ন করে দিয়ে যেতে পারেন, আল্লাহ যেন আপনাকে এই মজলুম জাতির জন্য এইটুকু করার তৌফিক দান করেন। ; আমিন।
লেখক:মোহাম্মদ এনামুল হক জীবন।
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিভাগ,
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা।
মোবাইলঃ ০১৩২২৫৪৯৭২৫,
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ