প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ২:০৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৫, ১১:৪৮ এ.এম
অদৃশ্য ক্ষমতা বলে ফেনীর ফুলগাজীতে অবৈধ ইটভাটার উৎপাদন অব্যাহত
ফেনী জেলায় ১০২ টি ইটভাটার মধ্যে কাগজে-কলমে ৪৫টি বৈধ, ৫৭ টি অবৈধ। বাস্তবিক অর্থে জেলায় ৯০ থেকে ৯২ টি ইটভাটা বর্তমানে চলমান রয়েছে, তন্মধ্যে ৭/৮ ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। অবশিষ্ট ৮০/৮২ ইটভাটার ছাড়পত্র সেই। কথিত রয়েছে অবৈধ ইটভাটার মালিকগণ পরিবেশ অধিদপ্তরের ফেনীর উপ পরিচালক ও কার্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে অবৈধ ইট উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।
জেলায় ৮০/৮২টি অবৈধ ইটভাটা থাকা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা ও দাগনভূঞা উপজেলায় গত ২ জানুয়ারি নামমাত্র অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অবৈধ ইটভাটায় অভিযানের বিষয় পরিবেশ অধিদপ্তরের ফেনীর উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন জনবল সংকট ও আর্থিক কারণে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযানের বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক জনাব সাইফুল ইসলাম বলেন পরিবেশ অধিদপ্তর যখনিই অভিযানের জন্য সহযোগিতা চাইবেন তখনই লোকবলসহ সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এর বাইরেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটা অভিযান চালানো হবে।
ফুলগাজী উপজেলায় অফিসিয়ালি ৭টি বৈধ ও ১১টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তন্মধ্যে শুধুমাত্র আনন্দপুর ইউনিয়নের ৭টি ইটভাটা রয়েছে, খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, ২/১টি ছাড়া উপজেলায় অনেকের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।
এমতাবস্থায় ফুলগাজী উপজেলা সহ পুরো জেলায় রাতে-দিনে ফসলি জমির টপসয়েল মাটি কেটে ফসলি জমি উজাড় করে দিচ্ছে মাটি দূস্যরা। এতে ফসলি জমি জলাভূমিতে পরিনত হচ্ছে। উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি, কৃষি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, বাড়ছে খাদ্য সংকট।
অবৈধ ইটভাটায় অভিযানের ব্যপারে ফুলগাজী নির্বাহী অফিসার তানিয়া ভূঁইয়া বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় যখনই চাইবে, তখনই উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
শুধুমাত্র ফুলগাজী আনন্দপুর ইউনিয়নে ৭টি ইটভাটা রয়েছে মর্মে জানতে চাইলে মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, আনন্দপুর ইউনিয়নে জলাশয় বেশী। অথচ ফুলগাজী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্যনুযায়ী আনন্দপুর ইউনিয়নে আবাদি জমি রয়েছে ৭৯৫ হেক্টর, জলাশয় ৩০ হেক্টর, স্থায়ী পতিত জমি ১৫ হেক্টর।
মাটিদূস্যরা দিন দিন উপজেলার ফসলি জমির টপসয়েল মাটি কেটে জলাশয়ে রুপান্তরিত করছে।
প্রতিনিয়ত ফসলি জমির টপসয়েল মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় নিম্ন মানের কয়লা ব্যবহারের ফলে ইটভাটার নি:সৃত ধোঁয়া-ছাই ভাটার আশেপাশে ধান, শাক সবজি ফলমূল নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই এর কারনে মানবদেহে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে রেসপিরেটরি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে ইটভাটার আশপাশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায় বেশি।
উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৮ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১কি.মি মধ্যে ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ আইন লঙ্ঘন করেই ফুলগাজীতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের পার্শ্বেই গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা।
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ