ফেনীতে অবৈধ ইটভাটায় জেলা প্রশাসনের অভিযানের গতি কমাতে পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন পরিবেশ ডিডি মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি
ডেস্ক নিউজ
ফেনী জেলায় ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে দিন-রাত ফসলি জমির টপসয়েল (মাটি) কেটে উজাড় করে দিচ্ছেন মাটি দূস্যরা। ফেনী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করেও নিভৃত করা যাচ্ছে না মাটি দূস্যদের।
এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন অবৈধ ইটভাটা বন্ধে তীব্রভাবে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় অবৈধ ইটভাটায় জেলা প্রশাসনের অভিযানের গতি কমাতে পিছনে কলকাঠি নাড়ছে পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর উপ পরিচালক(ডিডি) মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি ও তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায় যে, ফেনীতে ১০২ টি ইট ভাটা রয়েছে, তন্মধ্যে ৯০/৯২ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১০/১১টি ব্যতিত বাকীগুলির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। যাদের ছাড়পত্র নেই অভিযোগ রয়েছে সেসব মালিকগণ পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী উপপরিচালক ও তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে ইট উৎপাদন করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কয়েকটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা সহ দু'টি অবৈধ ইটভাটা আংশিক গুটিয়ে দেন।
অবৈধ ইটভাটায় যাতে অভিযান অব্যাহত না থাকে তার জন্য ইটভাটার মালিক সমিতি দেন দরবার করে ইট উৎপাদন পুরোদমে অব্যাহত রাখে বলে তথ্যসুত্রে জানা যায়।
এই সময় পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলির কাছে পুনরায় অভিযানের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন পর্যাপ্ত লোকবল ও অর্থ সংকুলানের কারনে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব নয় বলে জানান।
এমতাবস্থায় ফেনী জেলা প্রশাসক জনাব সাইফুল ইসলাম অবৈধ ইটভাটা ও ফসলি জমির টপসয়েল(মাটি) কাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন কে কঠোর নির্দেশ দেন এবং মাটি দূস্যেদের তালিকা করে মামলা করার কথা বলেন।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা অবৈধ ইটভাটায় অভিযান আরম্ভ করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি অসুস্থ্যতার দোহাই দিয়ে ঢাকায় চলে যান।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসন উপজেলার সব কয়টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযানের সবধরনের আয়োজন করে, কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালকের অসহযোগিতায় একটি ছাড়া বাকী অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
ঘটনা চক্রে মনে হচ্ছে, অবৈধ ইটভাটায়
জেলা প্রশাসকের অভিযানের গতি কমাতে পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি।
তবুও জেলা প্রশাসন গত কয়েকদিনে ১০/১২টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কিছু কিছু ইটভাটা গুড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশকিছু অবৈধ ইটভাটার ১ কি.মি. মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর এইসব ইটভাটার অনুমোদন না দিলেও বছরের পর বছর অফিস ম্যানেজ করে চলছে ইট উৎপাদন।
গবেষকদের তথ্যনুযায়ী ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাঁই এর কারনে মানবদেহে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে রেসপিরেটরি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে ইটভাটার আশপাশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায় বেশি।
ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাঁই মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধান, শাক সবজি ফলমূল।
এছাড়াও ফসলি জমির টপসয়েল (মাটি) কাটার ফলে ফসলি জমি জলাশয়ে পরিনত হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে, এতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন বিশিষ্ট জনেরা।
উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৮ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১কি.মি মধ্যে ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না
সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান, নির্বাহী সম্পাদক: মির্জা রকিবুল হাসান, সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম.
কার্যালয়: 70/E, Purana Paltan Line, 5th Floor, Dhaka-1000. নিউজ ও বিজ্ঞাপন : 01611507422 ইমেইল: bongosangbad.news@gmail.com, dailybongoshanbad@gmail.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বঙ্গ সংবাদ