গাইবান্ধায় বালু ব্যবসায়ীকে মারধর, লাখ টাকা ছিনতাই ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ
পূর্ববিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ; মাথায় ৯ ও হাতে ৪ সেলাই, থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০৪৮ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধায় পূর্ববিরোধের জেরে মো. তাজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে মারধর, নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তাজুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে গাইবান্ধা নতুন ব্রিজের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে বালু রাখার স্থানে যাচ্ছিলেন। পথে গাইবান্ধা মর্ডান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে শহর রক্ষাকারী বাঁধের ওপর নৌকাঘাট এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তাজুল ইসলামের অভিযোগ, পথরোধ করে তাকে গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে লাঠি, লোহার রড, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিন রামদা দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে কপালের বাম পাশে গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে নয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোনারুল ইসলাম মোনা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে তাজুল ইসলামের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর মাঝখানে জখম হয়। সেখানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন লোহার রড দিয়ে তার বাম চোখে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে চোখে আঘাতের পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কমে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে তাজুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গেলে নুর আলম নুরী তার বুকের ওপর উঠে গলা চেপে ধরেন। পরে কয়েকজন তাকে ধরে রাখার সময় তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই টাকা বালু কেনার মূল্য পরিশোধের জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তাজুল ইসলামের ব্যবহৃত Yamaha FZ মোটরসাইকেলটির হেডলাইট, তেলের ট্যাংক, সাইড কভারসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাজুল ইসলামের চিৎকার ও ঘটনাস্থলের শোরগোলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে আবারও মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে অটোবাইকযোগে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম চিকিৎসাধীন থাকায় তার বক্তব্য অনুযায়ী অভিযোগটি লিখে তার ভাতিজা মো. রওশন আলীর মাধ্যমে থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


















