গাইবান্ধায় শিশুকে দুই দফা মারধরের অভিযোগ, স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি
কাঠের স্কেল দিয়ে পেটানোর অভিযোগ; শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসে বাবার লিখিত অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০১:২২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০৪৭ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোদ্দ মালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কাঠের স্কেল দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। শিশুটির বাবার দাবি, একবার নয়—দুই দফায় মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শিশুটির বাবা মো. রোকন মিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, রোকন মিয়ার ৮ বছর বয়সী মেয়ে রুকসানা আক্তার খোদ্দ মালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্লাস চলাকালে বাংলা পড়ানোর সময় সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম কাঠের স্কেল দিয়ে রুকসানাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
রোকন মিয়ার দাবি, এ ঘটনায় তার মেয়ের ডান হাতে জখম হয়। মারধরের পর কান্নাকাটি করতে করতে রুকসানা বাড়িতে ফিরে বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে জানানো হয়। পরে গত ৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটির মা ফরিদা বেগম বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েকে মারধরের বিষয়টি নিয়ে বিচার চান।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, এ সময় সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওইদিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগম ও তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ শিশুটির বাড়িতে যান। সেখানে রুকসানার বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং রুকসানা বিদ্যালয়ে গেলে পুনরায় মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, এর পরদিন ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ক্লাস চলাকালে মাহবুব আরা বেগম আবারও রুকসানাকে মারধর করেন। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিশুটিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
এ ঘটনায় মো. রোকন মিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা মাহবুব আরা বেগমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং কার দায় কতটুকু—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।


















