ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

মস্তিষ্কের টিউমার জয় করে ১০ মাস পর শুটিংয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০৫৯ বার পড়া হয়েছে

মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত, একাধিক অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টে থাকার মতো কঠিন সময় পার করেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস চিকিৎসা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিকে নিজের দ্বিতীয় জন্মের মতো বলে বর্ণনা করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং অভিনয়ে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর মাথার ডান পাশের জটিলতার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে পারতেন না। এ ছাড়া শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও বমির সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। নাটকটিতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তাঁর চরিত্রটি।

শুটিংয়ে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, দীর্ঘ ১০ মাস কাজের বাইরে থাকায় শুটিং পরিবেশকে খুব মিস করেছেন। সহকর্মীদের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সহযোগিতা করেছেন।

তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কেমোথেরাপি চলমান থাকায় শুরুতে চিকিৎসকেরা শুটিংয়ে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। পরে মানসিকভাবে ভালো থাকার কথা বিবেচনা করে অনুরোধের পর একটি নাটকে কাজের অনুমতি পান তিনি। এখনো তাঁর দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি রয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে টিউমারের অবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তানিয়া বৃষ্টির। চার দিন ব্যথা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান তিনি। পঞ্চম দিনে অতিরিক্ত বমি শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ঢাকায় অস্ত্রোপচার এবং চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানকার এক চিকিৎসক তাঁকে সর্বোচ্চ সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়।

অসুস্থতার পুরো সময় মা ও বোন তাঁর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে মায়ের সেবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া অভিনেতা মোশাররফ করিম, নিলয়সহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কথাও উল্লেখ করেন তানিয়া বৃষ্টি। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে নতুন করে অভিনয়জীবন শুরু করতে চান তিনি।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে এই অভিনেত্রীর পরামর্শ, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

মস্তিষ্কের টিউমার জয় করে ১০ মাস পর শুটিংয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

আপডেট সময় : ১১:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত, একাধিক অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টে থাকার মতো কঠিন সময় পার করেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস চিকিৎসা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিকে নিজের দ্বিতীয় জন্মের মতো বলে বর্ণনা করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসা এবং অভিনয়ে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর মাথার ডান পাশের জটিলতার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে পারতেন না। এ ছাড়া শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও বমির সমস্যায় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া বৃষ্টি। নাটকটিতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তাঁর চরিত্রটি।

শুটিংয়ে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, দীর্ঘ ১০ মাস কাজের বাইরে থাকায় শুটিং পরিবেশকে খুব মিস করেছেন। সহকর্মীদের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সহযোগিতা করেছেন।

তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কেমোথেরাপি চলমান থাকায় শুরুতে চিকিৎসকেরা শুটিংয়ে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। পরে মানসিকভাবে ভালো থাকার কথা বিবেচনা করে অনুরোধের পর একটি নাটকে কাজের অনুমতি পান তিনি। এখনো তাঁর দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি রয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে টিউমারের অবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তানিয়া বৃষ্টির। চার দিন ব্যথা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান তিনি। পঞ্চম দিনে অতিরিক্ত বমি শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ঢাকায় অস্ত্রোপচার এবং চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানকার এক চিকিৎসক তাঁকে সর্বোচ্চ সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়।

অসুস্থতার পুরো সময় মা ও বোন তাঁর পাশে ছিলেন। বিশেষ করে মায়ের সেবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া অভিনেতা মোশাররফ করিম, নিলয়সহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কথাও উল্লেখ করেন তানিয়া বৃষ্টি। তবে সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে নতুন করে অভিনয়জীবন শুরু করতে চান তিনি।

জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে এই অভিনেত্রীর পরামর্শ, রোগের নাম শুনে মনোবল হারানো উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি।