ডিএনসিসি অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই বেহাল দশা: প্রশাসক শফিকুল
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, বর্তমানে করপোরেশনের তহবিলে কার্যত কোনো অর্থ নেই, ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক জানান, সাবেক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি, শেষ কর্মদিবসে ৩৪টি ফাইলে স্বাক্ষর করে দায়িত্ব শেষ করেন। এরই মধ্যে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে করপোরেশনের হাতে আছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, রাজস্ব ও আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে বেতন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ফলে হাতে অবশিষ্ট থাকে মাত্র ১২ কোটি টাকা। এই সীমিত অর্থ নিয়ে কীভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তাদের আশ্বস্ত করেছে। তিনি বলেন, “আমরা হতাশ নই। জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাত দিন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে কাজগুলো সহজভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
খাল পুনঃখনন ও দখল উচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, ঢাকা উত্তরে ২৯টি খাল রয়েছে। এসব খালে পুনরায় বর্জ্য অপসারণ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করা হবে। যেখানে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব অতীতে ছিল— ভবিষ্যতে তা দূর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচি তাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় খালগুলো সচল রাখা জরুরি। এ জন্য রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, আইন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষদের ক্ষেত্রে আলোচনা করে বিকল্প বাসস্থান বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।



























