পথচারী নিরাপত্তায় ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান শুরু: ডিএনসিসি প্রশাসক
- আপডেট সময় : ০৫:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে
পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ঢাকার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকের বেশি পথচারী হওয়ায় তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি সহায়তায় ২০২২ ও ২০২৩ সালের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত জিডি ও মামলার ভিত্তিতে ডিএনসিসি ও ডিএমপি যৌথভাবে এটি প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী। তিনি জানান, এই দুই বছরে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ পথচারী, ২৪ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ রিকশা ব্যবহারকারী। নিহতদের ৮০ শতাংশই পুরুষ এবং ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, দিনের তুলনায় রাতে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি এবং এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রধানত বেপরোয়া বাস ও ট্রাক দায়ী। যাত্রাবাড়ী ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৮ জনেরও বেশি মৃত্যুর সমান।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পথচারী, চালক ও যাত্রীদেরও সচেতন হয়ে আইন মেনে চলতে হবে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো পুনঃনকশা করা হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, প্রশস্ত ফুটপাত এবং জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিটিসিএর সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান, বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর সহ-সভাপতি এসএম আজাদ হোসেন, ডব্লিউআরআই-এর কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং সিআইপিআরবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন।
বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



























