ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বসুন্ধরায় প্রাইভেটকারের ধাক্কার জেরে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা


জুবায়ের শাহরিয়ার
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৭ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগার জেরে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা জজকোর্টে ওকালতি করতেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে স্বজনরা উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাতেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈমের প্রাইভেটকারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ ঘটনার জেরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা নাঈমকে প্রাইভেটকার থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১০ নম্বর রোডে ওয়ালটন বাড়ির সামনে তাকে ফেলে রেখে যান। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের গলা, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহতের খালাত ভাই রাকিবুল ইসলাম শামিম বলেন, নাঈমের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চকজয়েনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম পাবনা জজকোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মা আইরিন কিবরিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর নাঈমের বিরুদ্ধে পাবনায় একটি মামলা হওয়ায় তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নাঈমের ফোন থেকে তার কাছে একটি কল আসে। তবে তখন নাঈম কোনো কথা বলছিলেন না, শুধু হৈচৈ শোনা যাচ্ছিল। পরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন রিসিভ করে জানান, কয়েকজন ব্যক্তি আই ব্লকে নাঈমকে মারধর করে ফেলে রেখে গেছে। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করে প্রথমে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে নাঈমকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বসুন্ধরায় প্রাইভেটকারের ধাক্কার জেরে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০১:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগার জেরে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা জজকোর্টে ওকালতি করতেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে স্বজনরা উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রাতেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈমের প্রাইভেটকারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ ঘটনার জেরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা নাঈমকে প্রাইভেটকার থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১০ নম্বর রোডে ওয়ালটন বাড়ির সামনে তাকে ফেলে রেখে যান। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের গলা, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহতের খালাত ভাই রাকিবুল ইসলাম শামিম বলেন, নাঈমের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চকজয়েনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম পাবনা জজকোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মা আইরিন কিবরিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাবনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর নাঈমের বিরুদ্ধে পাবনায় একটি মামলা হওয়ায় তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নাঈমের ফোন থেকে তার কাছে একটি কল আসে। তবে তখন নাঈম কোনো কথা বলছিলেন না, শুধু হৈচৈ শোনা যাচ্ছিল। পরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোন রিসিভ করে জানান, কয়েকজন ব্যক্তি আই ব্লকে নাঈমকে মারধর করে ফেলে রেখে গেছে। পরে তিনি সেখানে গিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করে প্রথমে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে নাঈমকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।