ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথাব্যথা? স্ট্রোকের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করবেন না রেসিং সান্তান্দারকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রিয়ালের টানা ষষ্ঠ জয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন হুমায়ুন কবির পুতিনকে ‘বাস্তব জীবনের বন্ড ভিলেন’ ও ‘শয়তান’ বললেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ঠেকাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস – ২০২৬ উদযাপিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ময়মনসিংহে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে টানা মানববন্ধন নেত্রকোনায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য

শ্যামনগরের সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ, প্রশ্নে নজরদারি


সেলিম আহম্মেদ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৫৭ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নে মাদক কারবার, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার এবং ভারতীয় ওষুধ, গরু ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত ও সুন্দরবনসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এসব কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কথিত যোগসাজশে মাদক ও চোরাচালান চক্র নিরাপদে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসির নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে চালানের অবস্থান জানতে চান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ওই কর্মকর্তা পরে আর ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের কথা থাকলেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি ওই গণমাধ্যমকর্মীর।

সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বনরক্ষী ও শ্যামনগর থানা পুলিশের দায়িত্বপূর্ণ উপস্থিতির পরও যদি মাদক ও চোরাচালানের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিরোধে নজরদারি ও সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

মাদক ও চোরাচালান শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, স্থানীয় তরুণসমাজ ও জননিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

প্রশ্ন এখন একটাই—সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শ্যামনগরের সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ, প্রশ্নে নজরদারি

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নে মাদক কারবার, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার এবং ভারতীয় ওষুধ, গরু ও বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত ও সুন্দরবনসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এসব কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কথিত যোগসাজশে মাদক ও চোরাচালান চক্র নিরাপদে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসির নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে চালানের অবস্থান জানতে চান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ওই কর্মকর্তা পরে আর ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের কথা থাকলেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি ওই গণমাধ্যমকর্মীর।

সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, বনরক্ষী ও শ্যামনগর থানা পুলিশের দায়িত্বপূর্ণ উপস্থিতির পরও যদি মাদক ও চোরাচালানের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা প্রতিরোধে নজরদারি ও সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

মাদক ও চোরাচালান শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, স্থানীয় তরুণসমাজ ও জননিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

প্রশ্ন এখন একটাই—সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়? অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।