ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথাব্যথা? স্ট্রোকের এই ৫ লক্ষণ অবহেলা করবেন না রেসিং সান্তান্দারকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রিয়ালের টানা ষষ্ঠ জয় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন হুমায়ুন কবির পুতিনকে ‘বাস্তব জীবনের বন্ড ভিলেন’ ও ‘শয়তান’ বললেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ঠেকাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস – ২০২৬ উদযাপিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ময়মনসিংহে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে টানা মানববন্ধন নেত্রকোনায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য

হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধের দাবি


রানা খান, নেত্রকোণা
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৬৮ বার পড়া হয়েছে

রাতের আঁধারে নৌকা ভাসে হাওরের বিলে। ভোর হলে দেখা যায়, নৌকাভর্তি শামুক-ঝিনুক। যে ক্ষুদ্র প্রাণগুলো নীরবে হাওরের জল পরিষ্কার রাখে, তাদের নির্বিচার নিধনের প্রতিবাদে নেত্রকোণার আটপাড়ায় হাওরের বাস্তুতন্ত্র ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবাধে শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধের দাবিতে ‘প্রকৃতিবন্ধন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বক্তারা হাওরের বিভিন্ন বিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।

আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি ও আটপাড়া যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলজ পরিবেশ সুস্থ রাখতে শামুক-ঝিনুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে পানি পরিশোধনে সহায়তা করে। পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করে। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বাণিজ্যিক হাঁসচাষিদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আটপাড়ার সুনুই হাওর, ডিঙ্গাপোতা হাওর, গণেশের হাওর, বন্দের হাওর ও মহিষের হাওরসহ বিভিন্ন বিল থেকে রাতভর নৌকাভর্তি করে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। এভাবে নির্বিচারে জলজ প্রাণসম্পদ আহরণ অব্যাহত থাকলে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সেলিম বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে হাওর থেকে অনেক জলজ প্রাণী চিরতরে হারিয়ে যাবে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শামুক-ঝিনুকের অবৈধ নিধন বন্ধ করতে হবে।’

প্রকৃতিবন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ মাকসুদুল হক, লেখক আবুল হাসেম, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান, আটপাড়া যুব সমাজের প্রতিনিধি রানা খানসহ গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি ও স্থানীয় যুব সমাজের সদস্যরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধের দাবি

আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাতের আঁধারে নৌকা ভাসে হাওরের বিলে। ভোর হলে দেখা যায়, নৌকাভর্তি শামুক-ঝিনুক। যে ক্ষুদ্র প্রাণগুলো নীরবে হাওরের জল পরিষ্কার রাখে, তাদের নির্বিচার নিধনের প্রতিবাদে নেত্রকোণার আটপাড়ায় হাওরের বাস্তুতন্ত্র ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবাধে শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধের দাবিতে ‘প্রকৃতিবন্ধন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বক্তারা হাওরের বিভিন্ন বিল থেকে বাণিজ্যিকভাবে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান।

আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি ও আটপাড়া যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলজ পরিবেশ সুস্থ রাখতে শামুক-ঝিনুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে পানি পরিশোধনে সহায়তা করে। পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করে। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বাণিজ্যিক হাঁসচাষিদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আটপাড়ার সুনুই হাওর, ডিঙ্গাপোতা হাওর, গণেশের হাওর, বন্দের হাওর ও মহিষের হাওরসহ বিভিন্ন বিল থেকে রাতভর নৌকাভর্তি করে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। এভাবে নির্বিচারে জলজ প্রাণসম্পদ আহরণ অব্যাহত থাকলে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।

আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান সেলিম বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে হাওর থেকে অনেক জলজ প্রাণী চিরতরে হারিয়ে যাবে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শামুক-ঝিনুকের অবৈধ নিধন বন্ধ করতে হবে।’

প্রকৃতিবন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ মাকসুদুল হক, লেখক আবুল হাসেম, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান, আটপাড়া যুব সমাজের প্রতিনিধি রানা খানসহ গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি ও স্থানীয় যুব সমাজের সদস্যরা।