ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

আনসার সদস্য প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লাখ টাকা


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৭৮ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বানিয়াচং উপজেলা। সেই উপজেলার দুর্গম একটি গ্রাম বিথঙ্গল। যেখানে যেতে লাগে ‘বর্ষায় নাও আর শুষ্ক মৌসুমে পাও’। সেই দুর্গম এলাকায় হাঁস পালন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মো. রইছ উদ্দীন নামে এক আনসার সদস্য। হাঁসের ডিম বিক্রি করে তিনি এখন প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লাখ টাকা। যা দেখে হাস পালনের প্রতি উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গ্রামের বেকার তরুণরা। বলতে গেলে তিনি এখন আনসার সদস্যের পাশাপাশি এক সফল স্বাবলম্বী খামারি। রইছ উদ্দীন বিথঙ্গল গ্রামের মুন্সিহাটির বাসিন্দা।

জানা যায়, ২০১৮ সালে মাত্র ৭০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে ২শটি হাস দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। খামার শুরু করার পর ২০১৯ সালে হাস পালনের উপর প্রশিক্ষণও নেন রইছ উদ্দীন। এর পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১ হাজার হাস রয়েছে। যা থেকে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ৮০০টি ডিম পাচ্ছেন। আর এসব ডিম বাজারে বিক্রি করছেন পাইকারি দামে। যা থেকে তিনি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন। বলা চলে রইছ উদ্দীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাঁস পালনকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম এলাকায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে খামারি রইছ উদ্দীনকে। হাওরের মাঝখানে খামারটির অবস্থান হওয়ায় যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। উৎপাদিত ডিম বাজারে নিতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁকে। প্রতিক‚ল যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহনসংকট ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করেই নিয়মিত খামারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে খামারের পরিসরও বাড়িয়ে চলেছেন। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের জোগান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে।

রইছ উদ্দীন জানান- তার হাসের খামারের পরিসর বড় হওয়ায় এলাকার বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি নিজে কাজ করার পাশপাশি আরো দুই তিনজন যুবক নিয়মিত হাসের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন- স্থানীয় বাজারে ডিম সরবরাহে মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখছে আমার খামারটি। এতে আমি যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছি আমার প্রতিবেশী যুবকরাও তাতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আমার মতো অনেকেই এখন হাসের খামার দেয়ার চিন্তা করছে।

এলাকাবাসি বলছেন, দুর্গম হাওরাঞ্চলে প্রতিক‚ল পরিবেশের মধ্যেও হাঁস পালন ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে রইছ উদ্দীন দেখিয়েছেন, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সীমিত পুঁজিতেও একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর এই খামার ভবিষ্যতে আরও স¤প্রসারিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবদান বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাবাসি বলছেন- বাজারে যখন নকল ডিমে সয়লাভ তখন এলাকার লোকজন হাওরে ঘুরে ফিরে খাওয়া হাসের ডিম স্বাচ্ছন্দে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার তরুণরা এতে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আনসার সদস্য প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বানিয়াচং উপজেলা। সেই উপজেলার দুর্গম একটি গ্রাম বিথঙ্গল। যেখানে যেতে লাগে ‘বর্ষায় নাও আর শুষ্ক মৌসুমে পাও’। সেই দুর্গম এলাকায় হাঁস পালন করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মো. রইছ উদ্দীন নামে এক আনসার সদস্য। হাঁসের ডিম বিক্রি করে তিনি এখন প্রতি মাসে আয় করছেন প্রায় দুই লাখ টাকা। যা দেখে হাস পালনের প্রতি উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গ্রামের বেকার তরুণরা। বলতে গেলে তিনি এখন আনসার সদস্যের পাশাপাশি এক সফল স্বাবলম্বী খামারি। রইছ উদ্দীন বিথঙ্গল গ্রামের মুন্সিহাটির বাসিন্দা।

জানা যায়, ২০১৮ সালে মাত্র ৭০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে ২শটি হাস দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। খামার শুরু করার পর ২০১৯ সালে হাস পালনের উপর প্রশিক্ষণও নেন রইছ উদ্দীন। এর পর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১ হাজার হাস রয়েছে। যা থেকে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ৮০০টি ডিম পাচ্ছেন। আর এসব ডিম বাজারে বিক্রি করছেন পাইকারি দামে। যা থেকে তিনি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন। বলা চলে রইছ উদ্দীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাঁস পালনকে আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম এলাকায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে খামারি রইছ উদ্দীনকে। হাওরের মাঝখানে খামারটির অবস্থান হওয়ায় যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। উৎপাদিত ডিম বাজারে নিতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁকে। প্রতিক‚ল যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহনসংকট ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করেই নিয়মিত খামারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে খামারের পরিসরও বাড়িয়ে চলেছেন। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের জোগান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে।

রইছ উদ্দীন জানান- তার হাসের খামারের পরিসর বড় হওয়ায় এলাকার বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি নিজে কাজ করার পাশপাশি আরো দুই তিনজন যুবক নিয়মিত হাসের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন- স্থানীয় বাজারে ডিম সরবরাহে মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখছে আমার খামারটি। এতে আমি যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছি আমার প্রতিবেশী যুবকরাও তাতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আমার মতো অনেকেই এখন হাসের খামার দেয়ার চিন্তা করছে।

এলাকাবাসি বলছেন, দুর্গম হাওরাঞ্চলে প্রতিক‚ল পরিবেশের মধ্যেও হাঁস পালন ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে রইছ উদ্দীন দেখিয়েছেন, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে সীমিত পুঁজিতেও একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর এই খামার ভবিষ্যতে আরও স¤প্রসারিত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবদান বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাবাসি বলছেন- বাজারে যখন নকল ডিমে সয়লাভ তখন এলাকার লোকজন হাওরে ঘুরে ফিরে খাওয়া হাসের ডিম স্বাচ্ছন্দে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার তরুণরা এতে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।