ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন


বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:২১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০৪৯ বার পড়া হয়েছে

নিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য আবুল খায়ের লিংকন। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে রোববার বিকেলে ফেনী শহরের সেফরন রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ধলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর নবী, যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ও শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আবুল খায়ের লিংকন বলেন, আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জাকির হোসেন জসিম নামের এক ব্যক্তি কয়েকটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রচার করছেন এবং ওই আইডিগুলোর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁকে দায়ী করছেন। তবে এসব আইডির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

লিংকন বলেন, গত ১০ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে ধলিয়া ইউনিয়নে দলীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নাম প্রস্তাবের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই প্রক্রিয়া শেষে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জাকির হোসেন জসিমের নেতৃত্বে তাঁর ছোট ভাই ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইমাম হোসেন প্রবিসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে লিংকন বলেন, জাকির হোসেন জসিমকে হত্যার পরিকল্পনা বা চেষ্টার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে ১৯৯৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে লিংকন বলেন, সে সময় জসিম নিজ দলের এক কর্মীর ছোড়া গুলিতে আহত হলে তিনি ও তাঁর এক বন্ধু তাঁকে প্রথমে ফেনী এবং পরে ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় তিন ব্যাগ রক্তের মধ্যে তাঁরা দুজন দুই ব্যাগ রক্ত দিয়েছিলেন এবং চিকিৎসার খরচও তিনি বহন করেছিলেন বলে দাবি করেন লিংকন। তাঁর প্রশ্ন, যাঁকে একসময় জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছেন, তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ কতটা যুক্তিসংগত?

কনসেপ্ট হাসপাতাল পরিচালনার অভিযোগও অস্বীকার করেন লিংকন। তিনি বলেন, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল। তিনি ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং তাঁর বন্ধু। বন্ধুত্বের কারণে পরিচিত কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তিনি মানবিক কারণে সহযোগিতা করেন। এর বাইরে হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এসপি কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজের বিষয়ে লিংকন বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএমের এক আত্মীয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এসপি কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তৎকালীন জেলা বিএনপির নেতারাও জানতেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

লিংকন বলেন, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি দলকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পেরেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে তাঁর এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। ব্যক্তিগতভাবে কারও নাম উল্লেখ করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বা কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়াতে চান না বলেও জানান জেলা বিএনপির এ নেতা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:২১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য আবুল খায়ের লিংকন। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে রোববার বিকেলে ফেনী শহরের সেফরন রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ধলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর নবী, যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ও শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে আবুল খায়ের লিংকন বলেন, আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জাকির হোসেন জসিম নামের এক ব্যক্তি কয়েকটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রচার করছেন এবং ওই আইডিগুলোর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁকে দায়ী করছেন। তবে এসব আইডির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

লিংকন বলেন, গত ১০ অক্টোবর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে ধলিয়া ইউনিয়নে দলীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নাম প্রস্তাবের প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও ওয়ার্ড বিএনপির কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই প্রক্রিয়া শেষে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জাকির হোসেন জসিমের নেতৃত্বে তাঁর ছোট ভাই ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইমাম হোসেন প্রবিসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে লিংকন বলেন, জাকির হোসেন জসিমকে হত্যার পরিকল্পনা বা চেষ্টার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে ১৯৯৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে লিংকন বলেন, সে সময় জসিম নিজ দলের এক কর্মীর ছোড়া গুলিতে আহত হলে তিনি ও তাঁর এক বন্ধু তাঁকে প্রথমে ফেনী এবং পরে ঢাকায় নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় তিন ব্যাগ রক্তের মধ্যে তাঁরা দুজন দুই ব্যাগ রক্ত দিয়েছিলেন এবং চিকিৎসার খরচও তিনি বহন করেছিলেন বলে দাবি করেন লিংকন। তাঁর প্রশ্ন, যাঁকে একসময় জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছেন, তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ কতটা যুক্তিসংগত?

কনসেপ্ট হাসপাতাল পরিচালনার অভিযোগও অস্বীকার করেন লিংকন। তিনি বলেন, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল। তিনি ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং তাঁর বন্ধু। বন্ধুত্বের কারণে পরিচিত কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তিনি মানবিক কারণে সহযোগিতা করেন। এর বাইরে হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এসপি কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজের বিষয়ে লিংকন বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএমের এক আত্মীয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এসপি কার্যালয়ের ঠিকাদারি কাজ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তৎকালীন জেলা বিএনপির নেতারাও জানতেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

লিংকন বলেন, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি দলকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পেরেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে তাঁর এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। ব্যক্তিগতভাবে কারও নাম উল্লেখ করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বা কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়াতে চান না বলেও জানান জেলা বিএনপির এ নেতা।