ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন
রাজনীতি

২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ‘টোপ’ দিয়েছিল ডিপ স্টেট: আসিফ মাহমুদ

রাষ্ট্রের অন্দরমহলে সক্রিয় প্রভাবশালী ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির এক ভয়ংকর নীলনকশার কথা বলেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


মহানগর ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ অফার করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আইনি মারপ্যাঁচে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নির্বাচনী মাঠের বাইরে রাখা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এনসিপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।


বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ওই অংশটাই ওনাদের প্রয়োজন যেটা আসলে ওনাদের স্বার্থের জন্য কাজে লাগে। যেখানে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করলে ওনাদের লাভ হয়, সেটা আবার ওনাদের জন্য ‘হারাম’। যদি সত্যিই সংবিধান রক্ষা করতে হতো, তবে তো নির্বাচন ২০৩০ সালে হওয়ার কথা ছিল।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল–আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত–সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।”
এই প্রস্তাবের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এবং রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ভরা রোডম্যাপ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের সাজা বহাল রাখা এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল তারা শিখিয়ে দিয়েছিল। এমনকি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা বাতিল না করে কীভাবে তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যায়, সেই স্ট্রাটেজিও তারা সাজিয়ে দিয়েছিল।’

সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, ক্ষমতার লোভ বিসর্জন দিয়ে তারা সবসময় গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সমঝোতায় যাইনি। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য আমরা নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করেছি। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাক দুজন ব্যক্তি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আসীন হয়েছেন।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা একসময় নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ তৈরির দোহাই দিয়ে তাদের পদত্যাগ চেয়েছিল, তারাই এখন আগের সরকারের সুবিধাভোগীদের পুরস্কৃত করছে।

তার মতে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে ২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সম্ভব ছিল যদি তারা ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্সির সঙ্গে আপস করতেন। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা আপসহীন ছিলেন বলেই সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

রাজনীতি

২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ‘টোপ’ দিয়েছিল ডিপ স্টেট: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ অফার করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আইনি মারপ্যাঁচে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নির্বাচনী মাঠের বাইরে রাখা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এনসিপি আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।


বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ওই অংশটাই ওনাদের প্রয়োজন যেটা আসলে ওনাদের স্বার্থের জন্য কাজে লাগে। যেখানে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করলে ওনাদের লাভ হয়, সেটা আবার ওনাদের জন্য ‘হারাম’। যদি সত্যিই সংবিধান রক্ষা করতে হতো, তবে তো নির্বাচন ২০৩০ সালে হওয়ার কথা ছিল।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল–আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত–সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।”
এই প্রস্তাবের পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত এবং রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে ভরা রোডম্যাপ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের সাজা বহাল রাখা এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল তারা শিখিয়ে দিয়েছিল। এমনকি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা বাতিল না করে কীভাবে তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যায়, সেই স্ট্রাটেজিও তারা সাজিয়ে দিয়েছিল।’

সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, ক্ষমতার লোভ বিসর্জন দিয়ে তারা সবসময় গণতন্ত্র ও নির্বাচনের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সমঝোতায় যাইনি। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য আমরা নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করেছি। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাক দুজন ব্যক্তি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আসীন হয়েছেন।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা একসময় নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ তৈরির দোহাই দিয়ে তাদের পদত্যাগ চেয়েছিল, তারাই এখন আগের সরকারের সুবিধাভোগীদের পুরস্কৃত করছে।

তার মতে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে ২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা সম্ভব ছিল যদি তারা ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্সির সঙ্গে আপস করতেন। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা আপসহীন ছিলেন বলেই সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।