ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দির পরিচালনা অনিয়মের অভিযোগ


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২০৫৬ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

অরূপ চন্দ( চট্টগ্রাম)

( প্রথম পর্ব)

 

২০ ভরি স্বর্ণের হিসাব কোথায়?

 

 গঠনতন্ত্রের বাইরে কমিটি গঠনের অভিযোগ, রসিদ বই ও অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও অস্পষ্টতা

 

“‘সার্বজনীন মন্দিরে ‘আমরাই সর্বেসর্বা’ দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা,

 নিরপেক্ষ তদন্ত ও অডিট দাবি-

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও প্রসাশনের হস্তক্ষেপ মন্দির বক্তদের।

 

 

 

চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী দেওয়ানেশ্বরী সার্বজনীন কালী মন্দির, দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। কালীপূজা, শ্যামাপূজা, দীপাবলি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে প্রতিবছর এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পরিচালনা, কমিটি গঠন, দান অনুদান, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বর্তমানে উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় সনাতনী ভক্তদের একাংশের অভিযোগ, মন্দিরের গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভক্তদের দান করা প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকারের হিসাব ও বর্তমান অবস্থান নিয়েও স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ তাদের। উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহের রসিদ বই ও হিসাব নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বিপুল অর্থের অনিয়মের আশঙ্কার কথাও বলছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিকেই তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তাই স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত, হিসাব নিরীক্ষা এবং নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ২০ ভরি স্বর্ণের হিসাবের খাতা কোথায়? অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় মন্দিরের স্বর্ণালংকার। স্থানীয় ভক্তদের দাবি, দীর্ঘদিনে মন্দিরে ভক্তদের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকার দান করা হয়েছে। কিন্তু এসব স্বর্ণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ওজন, দাতার তথ্য, সংরক্ষণস্থল, ব্যবহারের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ ভক্তদের সামনে পরিষ্কার কোনো হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দাস গুপ্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়া মন্দিরের স্বর্ণালংকার দেখাতে পারবেন না।

জবাবদিহির বিষয়ে তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, পরিচালনা কমিটিই বিষয়টি দেখভাল করে এবং কাউকে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নথি ও মন্দিরের গঠনতন্ত্রের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে এমন বক্তব্যের পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সার্বজনীন মন্দিরের মূল্যবান সম্পদের হিসাব কি শুধু পরিচালনা কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সাধারণ সম্পাদক বললেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমল কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান সম্পদ সম্পর্কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে যে ধরনের অস্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় ভক্তদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মন্দিরের লিখিত হিসাব, সম্পদ নিবন্ধন ও কমিটির সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করা গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। ‘এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার’ সহ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুদে অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোর কথা বলেন।

তিনি বিষয়গুলোকে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবেও উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সার্বজনীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভক্তদের দান করা সম্পদ, অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনা কতটা ব্যক্তিগত বিষয়, এ প্রশ্নের উত্তর গঠনতন্ত্র, প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

গঠনতন্ত্রে ৩৫, কমিটি ৪১ কেন? মন্দির পরিচালনার কাঠামো নিয়েও উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ।

স্থানীয় ভক্তদের দাবি, ২০১৯ সালে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্রের একাধিক মৌলিক ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে তারা উল্লেখ করেছেন ধারা ৬ গ, ১১ ক, ১২ চ, ১৭ জ, ২৫ খ, ২৬ ঙ, ২৭ গ, ২৮ ছ এর দ্বিতীয় অংশ, ২৯ গ, ৩১ খ এবং ৩৩ ক ও খ।

বিশেষ করে ধারা ১১ ক এর কার্যনির্বাহী কমিটির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটি করা হয়েছে ৪১ সদস্যের। প্রশ্ন উঠেছে, গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হলে তা কীভাবে এবং কখন করা হয়েছে? সাধারণ সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে কি না? ৪১ সদস্যের কমিটির বৈধতার ভিত্তি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গঠনতন্ত্র, সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, অনুমোদনপত্র এবং কমিটি গঠনের সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভক্তরা।

ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দে ভক্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মন্দিরের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সম্মানিত ভক্তদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে মন্দির পরিচালনায় দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভক্তসমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তবে এ অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারা বাদ পড়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠিত হয়েছে এবং গঠনতন্ত্রে কী বলা আছে, এসব নথি বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

রসিদ বই, দান চাঁদা ও অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

মন্দিরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সব অর্থের যথাযথ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। রসিদ বইয়ের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও হিসাব মেলানো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

কেউ কেউ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কার কথা বললেও এ মুহূর্তে এমন অর্থ আত্ম

 

 

দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন, মন্দিরের পরিচালনায় অনেকে বিভিন্ন মামলা অপকর্ম সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন আসছে

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দির পরিচালনা অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

 

অরূপ চন্দ( চট্টগ্রাম)

( প্রথম পর্ব)

 

২০ ভরি স্বর্ণের হিসাব কোথায়?

 

 গঠনতন্ত্রের বাইরে কমিটি গঠনের অভিযোগ, রসিদ বই ও অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও অস্পষ্টতা

 

“‘সার্বজনীন মন্দিরে ‘আমরাই সর্বেসর্বা’ দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা,

 নিরপেক্ষ তদন্ত ও অডিট দাবি-

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও প্রসাশনের হস্তক্ষেপ মন্দির বক্তদের।

 

 

 

চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী দেওয়ানেশ্বরী সার্বজনীন কালী মন্দির, দেওয়ানেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। কালীপূজা, শ্যামাপূজা, দীপাবলি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে প্রতিবছর এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পরিচালনা, কমিটি গঠন, দান অনুদান, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বর্তমানে উঠেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় সনাতনী ভক্তদের একাংশের অভিযোগ, মন্দিরের গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ না করে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভক্তদের দান করা প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকারের হিসাব ও বর্তমান অবস্থান নিয়েও স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ তাদের। উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহের রসিদ বই ও হিসাব নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বিপুল অর্থের অনিয়মের আশঙ্কার কথাও বলছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিকেই তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তাই স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত, হিসাব নিরীক্ষা এবং নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ২০ ভরি স্বর্ণের হিসাবের খাতা কোথায়? অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় মন্দিরের স্বর্ণালংকার। স্থানীয় ভক্তদের দাবি, দীর্ঘদিনে মন্দিরে ভক্তদের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালংকার দান করা হয়েছে। কিন্তু এসব স্বর্ণের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ওজন, দাতার তথ্য, সংরক্ষণস্থল, ব্যবহারের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ ভক্তদের সামনে পরিষ্কার কোনো হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দাস গুপ্তের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়া মন্দিরের স্বর্ণালংকার দেখাতে পারবেন না।

জবাবদিহির বিষয়ে তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, পরিচালনা কমিটিই বিষয়টি দেখভাল করে এবং কাউকে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যের সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট অবশ্যই সংশ্লিষ্ট নথি ও মন্দিরের গঠনতন্ত্রের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে এমন বক্তব্যের পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সার্বজনীন মন্দিরের মূল্যবান সম্পদের হিসাব কি শুধু পরিচালনা কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সাধারণ সম্পাদক বললেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমল কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান সম্পদ সম্পর্কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে যে ধরনের অস্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় ভক্তদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মন্দিরের লিখিত হিসাব, সম্পদ নিবন্ধন ও কমিটির সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করা গেলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। ‘এগুলো আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার’ সহ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুদে অভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এসব বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোর কথা বলেন।

তিনি বিষয়গুলোকে তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার হিসেবেও উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সার্বজনীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভক্তদের দান করা সম্পদ, অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনা কতটা ব্যক্তিগত বিষয়, এ প্রশ্নের উত্তর গঠনতন্ত্র, প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

গঠনতন্ত্রে ৩৫, কমিটি ৪১ কেন? মন্দির পরিচালনার কাঠামো নিয়েও উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ।

স্থানীয় ভক্তদের দাবি, ২০১৯ সালে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করেই বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্রের একাধিক মৌলিক ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে তারা উল্লেখ করেছেন ধারা ৬ গ, ১১ ক, ১২ চ, ১৭ জ, ২৫ খ, ২৬ ঙ, ২৭ গ, ২৮ ছ এর দ্বিতীয় অংশ, ২৯ গ, ৩১ খ এবং ৩৩ ক ও খ।

বিশেষ করে ধারা ১১ ক এর কার্যনির্বাহী কমিটির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৫ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটি করা হয়েছে ৪১ সদস্যের। প্রশ্ন উঠেছে, গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হলে তা কীভাবে এবং কখন করা হয়েছে? সাধারণ সভায় তা অনুমোদিত হয়েছে কি না? ৪১ সদস্যের কমিটির বৈধতার ভিত্তি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গঠনতন্ত্র, সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, অনুমোদনপত্র এবং কমিটি গঠনের সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভক্তরা।

ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দে ভক্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মন্দিরের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও সম্মানিত ভক্তদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে মন্দির পরিচালনায় দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভক্তসমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তবে এ অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারা বাদ পড়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠিত হয়েছে এবং গঠনতন্ত্রে কী বলা আছে, এসব নথি বিশ্লেষণ করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

রসিদ বই, দান চাঁদা ও অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

মন্দিরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, উন্নয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সব অর্থের যথাযথ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। রসিদ বইয়ের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও হিসাব মেলানো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

কেউ কেউ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কার কথা বললেও এ মুহূর্তে এমন অর্থ আত্ম

 

 

দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন, মন্দিরের পরিচালনায় অনেকে বিভিন্ন মামলা অপকর্ম সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন আসছে