নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাঁদপুরের জেলেরা
- আপডেট সময় : ১২:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০৬২ বার পড়া হয়েছে
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাঁদপুরের জেলেরা। এ উপলক্ষে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলেপল্লীগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোথাও জাল মেরামত চলছে, কোথাও চলছে নৌকা প্রস্তুতের কাজ।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলে মা ইলিশ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। অন্যদিকে, মৎস্য বিভাগের টাস্কফোর্সের দাবি, নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে থেকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সরেজমিনে চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার, টিলাবাড়ি, বড় স্টেশন, পুরানবাজারের রনাগোয়াল, ইব্রাহীমপুরের রামদাসদী ও বহরিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ জেলে জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে নৌকা মেরামত করছেন জেলে ও কারিগরেরা।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মেঘনা নদীতে ইলিশের বিচরণ কম ছিল। তাঁর অভিযোগ, পাশের মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার কিছু জেলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মা ইলিশ শিকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ জন্য জাল মেরামত করছি।’
ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের রামদাসদী গ্রামের জেলে মইজা জানান, তাঁরা গোল্টিজাল দিয়ে ইলিশ ধরেন। নিষেধাজ্ঞার সময় জীবিকা নির্বাহের জন্য রিকশা চালিয়েছেন। এখন আবার নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইলিশ পাওয়া গেলে সংসার ভালোভাবে চলবে, আর মাছ না পেলে ঋণ করে চলতে হবে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাখুয়া গ্রামের জেলে রমজান মিজি বলেন, প্রকৃত জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন। তবে এক শ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই মা ইলিশ শিকার করেন বলে তাঁর অভিযোগ। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করলেও এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রমজান মিজি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে সরকার থেকে পাওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে একটি জেলে পরিবারের সংসার চালানো কঠিন। চালের পাশাপাশি নগদ অর্থসহায়তার ব্যবস্থা করা হলে জেলেদের দুর্ভোগ কিছুটা কমত। কারণ, অনেক জেলে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা কেনা বা মেরামতের পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসেন বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সব ইউনিট আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। এরপরও কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায় মা ইলিশ শিকারের ঘটনা ঘটেছে। আইন অমান্য করায় প্রায় সাড়ে ৩৫০ জন জেলেকে আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ২৪ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। এরপরও কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছেন। তাঁদের অধিকাংশকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুদের ব্যবহার করে মা ইলিশ শিকারের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
জেলেদের খাদ্যসহায়তা বাড়ানোর দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ২৫ কেজি চাল দিয়ে একটি পরিবারের সংসার চালানো কঠিন। গত বছর বৃহত্তর কুমিল্লা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চালের পাশাপাশি জেলেদের অন্যান্য খাদ্যসহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে এ খাতে বরাদ্দ নেই।
তিনি আরও জানান, জেলেদের সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে তাঁরা আন্তরিক এবং নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নিজেদের সক্ষমতার মধ্যে থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের প্রত্যাশা, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে তাঁদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কিছুটা কমবে এবং স্বাভাবিক জীবিকায় ফিরতে পারবেন তাঁরা।




















