সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী র্যালিতে হামলার অভিযোগ, আহত ১২
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আসার পথে বিএনপির একটি মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দীন। উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম হেদায়েতুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জাকির হোসেন প্রিন্সের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ, মহিলা দলের সভাপতি কামরুন নাহার কচি, শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নূর ইসলাম, কৃষক দলের সভাপতি লিয়াকত আলী ও ছাত্রদলের আসাদুজ্জামান আসাদ।
আলোচনা সভা শেষে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আশাশুনি বাজার ও থানার সামনে দিয়ে উপজেলা পরিষদ হয়ে পুনরায় থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
এদিকে আলোচনা সভা চলাকালে বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটের দিকে বুধহাটা ইউনিয়নের চাপড়া এলাকা থেকে বিএনপির অন্যতম সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব গাওছুল হোসেন রাজের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলের দিকে আসছিল।
মিছিলটি আশাশুনি সোনালী ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে লাঠি, শোটা ও রড নিয়ে একদল ব্যক্তি অতর্কিত ভাবে মিছিলে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন আহতরা। এ ঘটনায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
হামলার খবর পেয়ে সভায় প্রধান অতিথি কাজী আলাউদ্দীন তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং প্রশাসনকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আহ্বান জানান। এ ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য আলোচনা সভার পরিবেশ এলোমেলো হয়ে যায়।
হামলায় গাওছুল হোসেন রাজ, মনিরুল ইসলাম, আবুল খায়ের, হাফিজুল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুছ, ইবাদুল, আব্দুস সালাম, আব্দুল ওহাব, কামাল, জাহাঙ্গীর, আলমগীর ও আরিফুল আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে।
গুরুতর আহত গাওছুল হোসেন রাজ সাংবাদিকদের জানান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন এবং যুবদলের কিছু নেতা ও ভাড়াটিয়া লোকজন হামলায় জড়িত বলে দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।























