নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ঋণনির্ভর সরকার, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০৫৫ বার পড়া হয়েছে
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপের কারণে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঋণের মাধ্যমে অর্থের সংস্থান
সরকারের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র এবং ট্রেজারি বিল-বন্ডসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় সরকারের ব্যয় নির্বাহে ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। তবে এভাবে ঋণ গ্রহণ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক দায় আরও বাড়তে পারে।
বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ
প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার।
অর্থাৎ, একই সময়ে নতুন বৈদেশিক ঋণের অর্থের তুলনায় ঋণ পরিশোধে প্রায় ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি ব্যয় হয়েছে। ফলে সরকারের অর্থায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসের গুরুত্ব বেড়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়তে পারে। বিশেষ করে বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়লেও যদি উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
এ ছাড়া ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপরও সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব প্রভাবের মাত্রা নির্ভর করবে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তাগিদ
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জনবল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ব্যয়, পেনশন পরিশোধ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি একদিকে যেমন আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে এর অর্থায়ন কীভাবে করা হচ্ছে, তার ওপর দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রভাব নির্ভর করবে।






















