ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

শ্যামনগরে দুর্গাপূজার ডিউটি বণ্টনে ঘুষের অভিযোগ আনসার কর্মকর্তা তাহমিনা ও টিআই আলমগীরের বিরুদ্ধে


মোঃ আজমির হোসেন ,শ্যামনগর প্রতিনিধি।
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৫৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন ও টিআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় একাধিক সদস্য ও দলনেতা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের ৭০টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন অনলাইনে আবেদন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে ৪৫০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রমজাননগর ইউনিয়নের আনসার ও ভিডিপি দলপতি মো. রুহুল আমিনের অভিযোগ, তাঁর এলাকার ৩৪ সদস্যের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা বলে মোট ২৬ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। তাঁর দাবি, উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই টাকা টিআই আলমগীর হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পান বলেও অভিযোগ তাঁর।
অন্যদিকে, অস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে ডিউটি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানালে ভবিষ্যতে ডিউটি না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
চিংড়িখালী, যাদবপুর, সোনাখালী ও ভৈরবনগরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও কয়েকজন সদস্য একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দায়িত্ব পেতে ইউনিয়ন দলনেতার মাধ্যমে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তাদের
অভিযোগের বিষয়ে টিআই আলমগীর হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।” তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ইবনুল হক বলেন, “আর্থিক লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। ডিউটি বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শ্যামনগরে দুর্গাপূজার ডিউটি বণ্টনে ঘুষের অভিযোগ আনসার কর্মকর্তা তাহমিনা ও টিআই আলমগীরের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন ও টিআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় একাধিক সদস্য ও দলনেতা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের ৭০টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন অনলাইনে আবেদন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে ৪৫০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রমজাননগর ইউনিয়নের আনসার ও ভিডিপি দলপতি মো. রুহুল আমিনের অভিযোগ, তাঁর এলাকার ৩৪ সদস্যের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা বলে মোট ২৬ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। তাঁর দাবি, উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই টাকা টিআই আলমগীর হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পান বলেও অভিযোগ তাঁর।
অন্যদিকে, অস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্য শেখ মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে ডিউটি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানালে ভবিষ্যতে ডিউটি না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
চিংড়িখালী, যাদবপুর, সোনাখালী ও ভৈরবনগরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও কয়েকজন সদস্য একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দায়িত্ব পেতে ইউনিয়ন দলনেতার মাধ্যমে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তাদের
অভিযোগের বিষয়ে টিআই আলমগীর হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।” তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ইবনুল হক বলেন, “আর্থিক লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। ডিউটি বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”