ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

কৃষিঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষককে লোকসানমুক্ত করার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০৫৬ বার পড়া হয়েছে

সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ কমাতে সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তে সরকারের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তবে ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষকদের বারবার ঋণ নিতে বাধ্য হওয়ার কারণগুলোও দূর করা প্রয়োজন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কৃষকের ঋণ মওকুফ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু কৃষি উৎপাদনের ব্যয়, সারের দাম এবং ফসল বিক্রিতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সমস্যা সমাধান না হলে কৃষক আবারও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

সারের ডিলার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচিত ৫৭ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এ ছাড়া পীরগাছায় ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কেউ ডিলার হওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। তবে ডিলারশিপ কেনাবেচায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা কৃষকদের স্বার্থের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অনিয়মের কারণে সারের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং সরকারি ভর্তুকির সুফল কৃষকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কৃষিপণ্যের বাজারমূল্যের বৈষম্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষকের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ টাকা দরে কেনা লাউ ঢাকায় এসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ থাকলেও উৎপাদক ও ভোক্তার দামের এত বড় ব্যবধানের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ভোক্তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। এ অবস্থায় সরবরাহব্যবস্থার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণ, সম্ভাব্য চাঁদাবাজি এবং বাজারে অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধ, পথে পথে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, কৃষককে শুধু ঋণমুক্ত করলেই হবে না, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে যাতে লোকসানের মুখে পড়তে না হয়, সেই ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের আয় ও উৎপাদনব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ঋণনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

কৃষিঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষককে লোকসানমুক্ত করার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

আপডেট সময় : ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ কমাতে সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তে সরকারের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তবে ঋণ মওকুফের পাশাপাশি কৃষকদের বারবার ঋণ নিতে বাধ্য হওয়ার কারণগুলোও দূর করা প্রয়োজন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কৃষকের ঋণ মওকুফ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু কৃষি উৎপাদনের ব্যয়, সারের দাম এবং ফসল বিক্রিতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সমস্যা সমাধান না হলে কৃষক আবারও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

সারের ডিলার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীপুরে নির্বাচিত ৫৭ জন ডিলারের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এ ছাড়া পীরগাছায় ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কেউ ডিলার হওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। তবে ডিলারশিপ কেনাবেচায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তা কৃষকদের স্বার্থের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অনিয়মের কারণে সারের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং সরকারি ভর্তুকির সুফল কৃষকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কৃষিপণ্যের বাজারমূল্যের বৈষম্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষকের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ টাকা দরে কেনা লাউ ঢাকায় এসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ থাকলেও উৎপাদক ও ভোক্তার দামের এত বড় ব্যবধানের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে ভোক্তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। এ অবস্থায় সরবরাহব্যবস্থার মধ্যবর্তী পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণ, সম্ভাব্য চাঁদাবাজি এবং বাজারে অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে সারের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধ, পথে পথে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, কৃষককে শুধু ঋণমুক্ত করলেই হবে না, উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে যাতে লোকসানের মুখে পড়তে না হয়, সেই ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। কৃষকের আয় ও উৎপাদনব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ঋণনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।